ইতিহাসের লজ্জা, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের খণ্ডচিত্র

 

মাঝে বেশ ঝামেলায় পড়েছি। ঝামেলা বলে কথা! একটা লেখা তৈরি করার চেষ্টা করছিলাম, বিষয় ছিল ২০১৫ এর সংখ্যালঘু নির্যাতনের সালতামামি। তা লিখছি তো লিখছি, অনলাইন ঘেঁটে লিখছি, পেপার কাটিং পড়ে লিখছি, লোকের মুখে শুনে লিখছি, লেখাই শেষ হচ্ছে না। এক বছরে ১২ মাস ৬৪ জেলায় যদি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তাহলে লেখকের জন্য কঠিন হয়ে যায় লেখা। সংখ্যালঘু নির্যাতন: সমগ্র বাংলাদেশ-এ এক লাইন লিখে দিলেই চলে। ভূমি সংক্রান্ত ঘটনা, চাঁদা দাবি, খুন, ধরে কোপানো, গণহামলা কি নেই রে বাবা! তাও করছে বেশিরভাগ সরকারদলীয় লোকেরা। ভালোই তো, ভোটও দিতে হবে আবার ডানা কেটেছেঁটেও দেবে।

যেমন দেখা যাক কয়েকটা নমুনা: শেরপুর জেলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ঝিনাইগাতী উপজেলার গীতা রাণী বর্মন নামের পনের বছরের কিশোরীকে সদর থানার হামিদুল ওরফে আকাশ অপহরণ করে। অপহরণের ৪৬ দিন পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝিনাইগাতি থানা পুলিশ নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার সহযোগিতায় রূপগঞ্জ থেকে কৌশলে গীতা রাণী বর্মনকে উদ্ধার করে। এরপরের খবর কিন্তু আমরা পাই না, ৪৬ দিন অপহরণকারীর ডান হাতের অধিকারে থেকে সে কি অক্ষত ছিল?

গত বছর প্রতিমা ভাঙার মহাউৎসব গেছে। প্রতিমা ভাঙতে ভাঙতে মোমিনরা ক্লান্ত হয়ে গেছে। শালার এত প্রতিমা কেউ তৈরি করে? মূর্তি ভাঙার বছর শুরু হয় (জানুয়ারিতে) ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার ভাজনডাংগা পালবাড়িতে গভীর রাতে প্রায় শতাধিক স্বরস্বতী প্রতিমা ভাংচুর করে। সুকুমার পাল জানান আসন্ন স্বরস্বতী পুজা উপলক্ষে তারা মূর্তিগুলো বানিয়েছিলেন বিক্রির জন্য। ভেঙে ফেলায় তার প্রায় এক লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছিল। বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় মালিপাড়া দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করা হয়, রাতের অন্ধকারে মন্দির থেকে লক্ষ্মী প্রতিমা তুলে নিয়ে ভাংচুর করে নিকটস্থ পুকুর পাড়ে ফেলে রাখে অবশিষ্টাংশ। প্রমথ ঢালী জানান এ ঘটনা ঘটে লক্ষ্মীপুজার পরে। মানিকগঞ্জ জেলায় নভেম্বর মাসে ঘিওর উপজেলায় সিংজুরি গ্রামে মন্দির ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল, জড়িতে সন্দেহে স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্কাস আলী ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কালিবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি গৌড় চন্দ্র দত্ত বলেন ঐ জমির মালিকানা নিয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের সঙ্গে মামলা চলছিল, আদালত মন্দিরের পক্ষে রায় দেন তবে ঐ মন্দিরের জমি দখল করার জন্য তারা চেষ্টা করছে। তারই সূত্র ধরে এ ভাংচুরের ঘটনা। তিনটি প্রতিমাও ভাংচুর করা হয়। একই মাসে গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব হাটবাড়িয়া ইউনিয়নে সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। দুর্গার গলায় টাকার মালা, পাঁচটি পিতলের ঘট ও কাপড়সহ পুজার সরঞ্জাম লুট হয়ে যায়। দুর্গার হাত ও অসুরের ঘাড় ভাঙা হয়। একই মাসে অর্থাৎ নভেম্বরে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের নাবা গ্রামের সার্বজনীন পুজা মন্দিরে আসন্ন দুর্গাপুজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমা ভাংচুর করা হয় গভীর রাতে। মৌলবাদীরা দুর্গার তিনটি হাতের ও সিংহের মুখের অংশবিশেষ ভাংচুর করে। বীরেন্দ্রনাথের পুত্র দিলীপ কুমার বৈরাগী এ ব্যাপারে থানায় মামলা করেন। আরো একটি ঘটনা ঘটে নভেম্বর মাসে, দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের উত্তর মহেশপুর গ্রামের সিংড়া কালী মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করা হয় ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি হাতবোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান মন্দিরে পালাগান চলার সময় ১০/১৫ জন অতর্কিতে মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমার মাথা ভাংচুর করে, প্রতিমার সঙ্গে থাকা ২০ ভরি স্বর্ণ ও ১০ কেজি রূপা নিয়ে যাওয়ার সময়ে এলোপাতাড়ি রামদা দিয়ে কুপিয়ে চারজনকে আঘাত করে, আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ঘটনাস্থলে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এর আগে সেপ্টেম্বরে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার শেয়ালকোল কর্মকার পাড়া শ্মশান কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করা হয়, কালী প্রতিমাটির পুরো কাঠামোটি উল্টে দেওয়ায় কালী প্রতিমা ও ডাকিনী-যোগিনীসহ তিনটি প্রতিমা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চাঁদাবাজির ঘটনা দেখি। সাভার জেলার আশুলিয়ায় মে মাসে একটি হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের উপর স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাঁদা দাবী করে, চাঁদা দিতে অসম্মত হওয়ায় পরিবারটির উপর হামলা করা হয়, বসতবাড়িতে ভাংচুর চালানো হয়। এতে বৃদ্ধাসহ ছয়জন আহত হয়। ঘটনার তদন্তে জানা যায় স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রলীগকর্মীরা চাঁদা সংগ্রহ করছিল। সংখ্যালঘু পরিবারটি চাঁদা দিতে না চাইলে ছাত্রলীগকর্মীরা বাড়িতে থাকা টিভি, ফ্রিজ, দরজা-জানালা ভাংচুর করে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনার পর আসে। একই মাসে মে মাসে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় ৬ নং সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের ভয়ে ৩ সংখ্যালঘু পরিবারের ১০ সদস্য নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। অন্যদের তালা লাগানো ঘরবাড়ির মাঝে স্বামীর স্মৃতি আঁকড়ে থেকে গেছেন বৃদ্ধা নির্মলা রাণী। নির্মলা রাণী এখন ঘুরছেন প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে আর জানাচ্ছেন: অব্যাহত চাঁদার দাবীতে প্রতিদিন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই সন্ত্রাসীরা মটর সাইকেলযোগে বাড়ির বারান্দায় অবস্থান নিয়ে নেশা করে, আড্ডা দেয়, গালিগালাজ করে। এর আগে তারা দেবেন্দ্রনাথ নামের একজনকে মারপিট করে গ্রাম ছাড়া করেছিল। দেবেন্দ্রনাথ প্রাণের ভয়ে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে দেবেন্দ্রনাথের বাড়ির টিন খুলে নিয়ে গেছে এবং গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে।

এবার জমি সংক্রান্ত ঘটনা কয়েকটি দেখি। জানুয়ারিতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সংখ্যালঘু কয়েকটি পরিবারের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে ভুক্তভোগী পরিবারবৃন্দ। ময়নামতি ইউনিয়নের রামপাল গ্রামের নেপাল চন্দ্র দেবনাথ লিখিতভাবে সংবাদ সম্মেলনে জানান: তাদের পৈতৃক জমি এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা দখল করে রেখেছে, এসব জমি নিয়ে বিরোধ মেটাতে এলাকায় বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হলেও অভিযুক্তরা এসব বৈঠক না মেনে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। ফেব্রুয়ারিতে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার কবি রুপসা গ্রামে সংখ্যালঘু পরিবারের জোরপূর্বক জায়গা দখল করা হয়, সরেজমিনে ও থানার সূত্রে জানা যায় দিনমজুর মন কুমার সাহা ঐ গ্রামে ৯ নং খতিয়ানের তিনটি দাগের জায়গা ৯৯ বছর বংশানুক্রমে ভোগ করে আসছিল। মন কুমার সাহা তার জমিতে ফুলকপি ও মৌসুমি সবজি চাষ করেছিলেন। ঘটনার দিন ভোরে শাহজাহান গংরা এসে ফুলকপি ও সবজি কেটে ফেলে ধান রোপণ করে। মন কুমার সাহা প্রতিবাদ জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ও জমির কাছে আসলে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। একই মাসে আরেকটি ঘটনা ঘটে দক্ষিণের জেলা সাগরকন্যা পটুয়াখালীতে, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে কম দামে জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় রামকৃষ্ণ তালুকদারের কাছে ৫০০০০ টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। অন্যথায় তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়া হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি এলাকার প্রভাবশালী আব্দুর রব তালুকদার ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কাছে এ অভিযোগ করলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে জানান রামকৃষ্ণ তালুকদার। মে মাসে বরগুনা জেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার ১০নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পালের বালিয়াতলী গ্রামে মন্টু দাসের পরিবারের উপর হামলা করে প্রতিবেশী হোসেন গাজী। এতে মন্টু দাসের পরিবারের ছয়জন আহত হয়, তাদের মাঝে রেনু দাস নামে একজন পৌঢ়াও ছিলেন। প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘটনা নিয়ন্ত্রণের পর তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ব্যাপারে অন্য এক বাসিন্দা তপন চন্দ্র শীল বলেন: আমরা মোট নয়টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার এখানে বসবাস করছি। জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হোসেনের হঠাৎ করেই আর্থিক সচ্ছলতা আসে। তার ছোট জামাই বেলালের বাড়ি মোড়লগঞ্জ। তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে ঐ এলাকায় তিনটি মামলা আছে। সে এখন তার শ্বশুরের সঙ্গে যোগ দিয়ে আমাদের এখান থেকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছে। ঘটনার দিন মন্টু দাসের জমিতে লাগানো হলুদ কে বা কারা চুরি করে নিয়ে যায়। তা নিয়ে প্রতিবেশিদের নালিশ জানাতে গেলে হোসেনের পরিবারের সঙ্গে তর্কাতর্কি হলে তার পরিবারের ওপর হামলা করা হয়। আগস্টে ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস শুক্কুর মোল্লার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের জমি দখল, মারধর, এলাকা ছাড়ার হুমকি ও মিথ্যা মামলা দেওয়ার প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন করে অর্ধশত সংখ্যালঘু পরিবার। এতে এ ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের সংখ্যালঘুরা অংশ নেয়। মানববন্ধন থেকে ফেরার পথে গণহামলার শিকার হয় সংখ্যালঘুরা। বারোজন আহত হয়। সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের সাগরদ্বীপ মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের লোকনাথ বাবার মন্দির ও কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। মনিরুল ইসলাম নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি এ হুমকি দেয়ায় মনিপুর গ্রামের হিন্দু সংখ্যালঘুরা আশঙ্কাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মৃত বজেন্দ্রের পুত্র অজিত দে-কে স্থানীয় মহিলা মেম্বার শাহেদা সিরাজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে স্ট্যাম্পে লিখে দিতে বলে ও ভয় দেখায়। নভেম্বরে বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের সন্ন্যাসীবাজারে এক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা করা নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। সেদিন ভোর ৭টার দিকে মৃত অমৃত কুমার শিকদারের জমিতে একই এলাকার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের হারুন ফরাজী, কামরুল বয়াতী, ফকরুল বয়াতী, এমদাদুল মল্লিক সহ ১০/১২ জন ইট বালি সিমেন্ট দিয়ে ঘর নির্মাণ শুরু করে। তখন ঐ সংখ্যালঘু পরিবারের সমীর শিকদার, কমল শিকদার, সৌরভ শিকদার, কনক প্রভা শিকদার, সুমিতা শিকদার হামলার শিকার হয়ে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। একই মাসে লালমনিরহাট জেলায় পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের হোসনাবাদ ইউনিয়নের হোসনাবাদ এলাকায় নিজ ফসলি জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে এক সংখ্যালঘু পরিবারের তিন সদস্য প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়। ওই জমি নিয়ে একই এলাকার আবুল হোসেন গংদের সঙ্গে জমি মালিকানা দাবী করা শ্যামল চন্দ্র সেনের বিরোধ চলছিল। আবুল হোসেনের লোকেরা শ্যামল চন্দ্র সেন, কমল চন্দ্র সেন ও তার বৃদ্ধা মা পুষ্প বালা সেনকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এগুলো হাতেগোনা কয়েকটি উদাহরণ মাত্র। আরো অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে ২০১৫ সালে। কুমিল্লায় তুলসী রাণি নামের এক হিন্দু নারীকে মুসল্লীরা পেটে লাথি মারলে তার গর্ভপাত হয়ে যায়। সময়ের স্বাক্ষর হিসেবে যখন এ লেখা লিখছি তখন বছরের হিসেবে ২০১৬ চলে এসেছে, এ বছরের শুরুতেই সংখ্যালঘু নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাগুলোর বিচার তো দূরের কথা এ সপ্তাহে হবিগঞ্জ জেলায় বানিয়াচং উপজেলার উত্তর সাঙ্গর গ্রামে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় সংখ্যালঘু নারীকে স্বামী ও সন্তানের সামনে পুনরায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ভাই ঘটিয়েছে। চরম বর্বরতার স্বীকার হতে হচ্ছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নারীকে। ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘু নির্যাতনের সংঘবদ্ধ ঘটনা ঘটার পরে সুপ্রিমকোর্ট দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে যে রিপোর্ট পেশ করেছিল তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তা আর আলোর মুখ দেখেনি, কেননা তাতে অনেকের মুখোশ খুলে যাবার সম্ভাবনা ছিল। সাধারণ মানুষেরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটাচ্ছে না, যারা ঘটাচ্ছে তারা সবাই কোন কোন রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট নেতা-কর্মী, সংখ্যালঘুদের সম্পদ দখল করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতপার্থক্য সম্বলিত লোকেরাও এক্ষেত্রে একট্টা হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার কাজটি যেভাবে হচ্ছে তা বর্ণনা করতে একদিন ইতিহাসও লজ্জা পাবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s