বাংলাদেশের প্রথম মুক্তচিন্তার চর্চার আন্দোলন

th

‘যা শাস্ত্র তাই বিশ্বাস্য নয়, যা বিশ্বাস্য তাই শাস্ত্র’— নোবেল বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এ সময়ে মুক্তবুদ্ধির চর্চা যেভাবে মার খাচ্ছে, ঘাতকের চাপাতির আঘাতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ছে মুক্তচিন্তকদের মাথা তাতে বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধির চর্চার ইতিহাস জানার ও  জানানোর দরকার আছে এ কারণে যে বাংলাদেশের মুসলিম পশ্চাদপদ সমাজকে আলো দেখানোর চেষ্টা এর আগেও হয়েছিল, তবে তাও প্রতিক্রিয়াশীলদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু সে সময়টাই এমন ছিল, কিছু করার ছিল না। সেসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চার পথিকৃত ছিলেন শুধুমাত্র জ্ঞানতাপসরা, কিন্তু আজ সে চর্চাকে জ্ঞানপিপাসু, বইপড়ুয়া, সচেতন মানুষেরা, ছাত্রসমাজ, মানবাধিকার কর্মীরা, লেখকেরা মোটকথা বিভিন্ন শ্রেণীপেশা থেকে আসা কিছু মানুষেরা সমাজের অন্ধত্ব, গোড়ামি নিয়ে নিয়মিত কিছু বলছেন বা লিখছেন পুস্তকে ও ইন্টারনেটে। ঘাতকের কোন গোপন ছুরিই তা থামাতে পারছে না। গুপ্তঘাতকেরা যত নিষ্ঠুর হচ্ছে এসব মুক্তচিন্তার চর্চাকারীদের লেখা আরো বেগবান হচ্ছে।

আসল কথায় আসা যাক। বাংলাদেশের প্রথম মুক্তবুদ্ধি চর্চার আন্দোলন হয় ঢাকায়, এটি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন। ১৯২১ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে মুহ্যমান মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজে দ্রুত উচ্চ শিক্ষার প্রসার ঘটে। এ নব্য গুটিকয় মুসলিম শিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়ে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার আরেকটি কেন্দ্র কলকাতার মত ঢাকায় গড়ে ওঠে। ১৯২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল হুসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ নামে একটি সাংস্কৃতিক  সংগঠন গড়ে্ঠেছিল। এ সংগঠনটির নাম ছিল মুসলিম সাহিত্য সমাজ, তা হলেও  এর কর্মকান্ড আবর্তিত হত হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল বাঙালির জন্য। এ বিষয়ে আন্দোলনরে পুরোধা আবুল হোসেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য’ প্রসঙ্গে এক প্রবন্ধে তিনি লেখেন, ‘কেহ হয়ত মনে করবেন এ সমাজের নাম ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ হওয়ায় হিন্দু সাহিত্যিকগণের কোন সম্পর্ক এতে নেই। কিন্তু এই বার্ষিক রিপোর্ট হতে আপনারা বুঝবেন যে এ সমাজ কোন একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ নয় কিংবা এ কোন এক বিশেষ সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য গঠিত হয়নি। সাহিত্য সৃষ্টি এর উদ্দেশ্য, আর সেই সাহিত্যে মুসলমানের প্রাণ ও জীবন ফুটিয়ে তোলাই ইহার অন্যতম উদ্দেশ্য।’ গুণেমানে ঠিক এক না হলেও কলকাতার ‘কল্লোল’ গোষ্ঠীর (১৯২৩) মত ঢাকায় সৃষ্টি হওয়া এ ‘শিখা’ গোষ্ঠির লেখকেরা সংখ্যায় স্বল্প, কিন্তু চিন্তার সংকীর্ণতা ও জড়তার ভিত্তিমূলে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করতে সক্ষম হলেন। কেননা তার জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন গ্রন্থগুলো পড়েছিলেন প্রবল মনযোগ দিয়ে, সেভাবেই নিজেদের তৈরি করেছিলেন এবং তাদের লেখাগুলোতে স্বসমাজের অনগ্রসরতা কাটানোর চরম আর্তি ও যুক্তি প্রকাশিত হয়েছিল।  সম্পাদক-প্রকাশক হিসাবে আবুল হুসেন ছিলেন ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিদের অন্যতম। শিখা গোষ্ঠীর অন্যান্য লেখকদের মধ্যে কাজী আবদুল ওদুদ (১৮৮৭-১৯৪৮), কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১), কাজী আনোয়ারুল কাদির (১৮৮৭-১৯৪৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-৫৬) আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) এবং আবদুল কাদির (১৮৮৭-১৯৪৮) এর নাম উল্লেখযোগ্য। এরা স্বাধীন মতপ্রকাশকে স্বদেশের স্বজাতির আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পূর্বশর্ত বলে মনে করতেন। জ্ঞান সাধনাই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষক ও ছাত্র জ্ঞান তাপসদের জীবন দর্শন। কাজী আবদুল ওদুদকে বলা হত এ প্রতিষ্ঠানের মস্তক,  আবুল হুসেনকে হস্ত এবং কাজী মোতাহার হোসেনকে হৃদয়।

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের যোদ্ধা  আবুল ফজল ‘বুদ্ধির মুক্তি’ নামের প্রবন্ধে ‘শিখা’ পত্রিকা সম্পর্কে পাই: ‘শিখার টাইটেল পৃষ্ঠায় একটি ক্ষুদ্র রেখাচিত্র ছিল . . . একটি খোলা কোরান শরীফ. . . .মানববুদ্ধির আলোর স্পর্শে কোরানের বাণী প্রদীপ্ত হয়ে উঠেছর‌্য‌্যর‌্যছিল রেখাচিত্রটির মর্ম। কিন্তু এর একটা কদর্থ বের করতে বিরুদ্ধবাদীদের বেগ পেতে হয়নি। তারা এর অর্থ রটালেন মুসলিম সাহিত্য সমাজের সমর্থকরা কোরানকে পুড়িয়ে ফেলে শুধু মানববুদ্ধিকেই দাঁড় করাতে চাচ্ছে। বলাই বাহুল্য, গোড়া থেকেই গোঁড়ারা মুসলিম সাহিত্য সমাজের বিরোধী ছিল। চিন্তার ক্ষেত্রে কায়েমি স্বার্থের বুনিয়াদ সবচেয়ে শক্ত। এরপর এরা রীতিমত বিরুদ্ধতা করতে লাগলেন আমাদের।’th

মুসলিম সাহিত্য সমাজের ব্যানারে শিখা গোষ্ঠীর কার্যক্রম উপমহাদেশের জ্ঞানীগুণীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল। যার প্রমাণ মিলে ১৯২৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রথম বার্ষিক সাধারণ সম্মেলনে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, মোহিত লাল মজুমদার, ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার প্রমুখ হিন্দু মনীষার অংশগ্রহণ। যা আবুল হুসেনসহ সমগ্র শিখা গোষ্ঠীর অসাম্প্রদায়িক উদারমনা মানবতাবাদেরই পরিচয় বহন করে।  কেননা শিখা গোষ্ঠীর শ্লোগান ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’। এই কথাটি বার্ষিক মুখপত্র ‘শিখা’র শিরোনামের নিচে লেখা থাকতো। তখন ‘শিখা’ পত্রিকায় যারা লিখতেন তারা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৩৩৩-১৩৩৮ সময়সীমার মধ্যে মোট পাঁচটি সংখ্যা বের হয়েছিল। নজরুল তখন বাধাবন্ধহারা যৌবনশক্তির প্রতীক হয়ে ‘জনগণ মন অধিনায়ক’ হয়ে বসেছেন। ১৯২৭ ও ১৯২৮ সালে দু’দুবার ঢাকায় এসে নজরুল শিখাগোষ্ঠী তথা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ এর বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে সবাইকে মাতিয়ে যান। কাজী আবদুল ওদুদকে বলা হতো এ প্রতিষ্ঠানের মস্তক, আবুল হুসেনকে হস্ত আর কাজী মোতাহার হোসেনকে হৃদয়। বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন বলতে তারা কী বুঝতেন সে সম্পর্কে ড. কাজী মোতাহার হোসেন দ্বিতীয় বর্ষের কার্যবিবরণীতে বলেছেন:–‘আমরা চক্ষু বুঝিয়া পরের কথা শুনিতে চাই না বা শুনিয়াই মানিয়া লইতে চাই না; আমরা চাই চোখ মেলিয়া দেখিতে, সত্যকে জীবনে প্রকৃতভাবে অনুভব করিতে। আমরা কল্পনা ও ভক্তির মোহ আবরণে সত্যকে ঢাকিয়া রাখিতে চাই না। আমরা চাই জ্ঞানশিক্ষা দ্বারা অসার সংস্কারকে ভস্মীভূত করিতে এবং সনাতন সত্যকে কুহেলিকা মুক্ত করিয়া ভাস্বর ও দীপ্তিমান করিতে। …এক কথায় আমরা বুদ্ধিকে মুক্ত রাখিয়া প্রশান্ত জ্ঞানদৃষ্টি দ্বারা বস্তুজগত ও ভাবজগতের ব্যাপারাদি প্রত্যক্ষ করিতে ও করাইতে চাই।’

মুসলিম সাহিত্য সমাজের লেখকগণ তাদের চিন্তাধারাকে পাঠক সমাজের কাছে পৌঁছে দেবার জন্যে তিনটি পথ অবলম্বন করেছিলেন। সে তিনটি পথ হলো: এক) পত্রপত্রিকা প্রকাশ, দুই) সাময়িক অধিবেশন ও বার্ষিক সম্মেলনের ব্যবস্থা তিন) গ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ। আর সুখ্যাত ছয়টি বিষয়কে কেন্দ্র করেই তাদের চিন্তাভাবনা আবর্তিত হতো। বিষয় ছয়টি হলো: মাতৃভাষা, শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক সমস্যা, ললিতকলার চর্চা, ধর্মীয় রীতিনীতির ব্যাখ্যা। বাংলার মুসলমান সমাজের যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথা  ছিল, তা দূর করা ছিল এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য। বাঙালি মুসলমান সমাজের যুগ যুগান্তরের আড়ষ্ট বুদ্ধিকে মুক্ত করে জ্ঞান-পিপাসা জাগিয়ে তোলাই ছিল ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের লক্ষ্য। মুক্তচিন্তার অনুশীলনের মাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশকে তারা স্বজাতির আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পূর্বশর্ত বলে মনে করতেন। বাঙালি মুসলমানদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অনীহার সমালোচনা করে তারা বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাঙ্গনেই আমরা জ্ঞানের সঙ্গে বিরোধ করে আসছি। দর্শন, বিজ্ঞান ও আর্টকে আমাদের শিক্ষাকেন্দ্র হতে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছি, এই ভয়ে পাছে আমাদের ধর্ম নষ্ট হয়। ধর্ম আমাদের এতই নাজুক!. . . ব্রিটিশের সঙ্গে ইউরোপের জ্ঞানদীপ্ত মন যখন এ দেশে আসলো এবং আমাদের আড়ষ্ট মনকে আঘাত করল, তখন হিন্দু সমাজ সে আঘাতে জেগে উঠলো এবং জ্ঞানদীপ্ত মনকে বরণ করে নিল। আর আমরা মুসলমানরা সে আঘাতে জাগতে তো চাই-ইনি বরং চোখ রাঙিয়ে সে মনকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। ইউরোপের জ্ঞানকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত আমরা আমাদের সে নিদারুণ ভুলের সংশোধনের চেষ্টা করি নাই। বরং সে ভুলকে বর্তমানে আরো জোর করে আঁকড়ে ধরেছি।” ধর্মবিশ্বাস, পর্দাপ্রথা, সুদগ্রহণ, নাচগান চর্চা সম্পর্কে এ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করতেন। সাহিত্য সমাজের বিভিন্ন সভায় পঠিত এবং ‘শিখা’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধে তাদের চিন্তা ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটত। কলকাতার দি বেঙ্গলি পত্রিকা সাহিত্য সমাজের এই আদর্শকে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ (Emancipation of the Intelect) এবং শিবনারায়ণ রায় ‘বৌদ্ধিক আন্দোলন'(Intellectual Movement) নামে অভিহিত করেন।  প্রথম দিকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রায় সবাই কর্মজীবনের টানে ঢাকা ছেড়েছিলেন তবে ‘শিখা’ উদ্দীপ্ত ছিল সকলের চেতনায়। কাজী আবদুল ওদুদ ও ড. কাজী মোতাহার হোসেন ঢাকায় ছিলেন এবং শেষমুহূর্ত পর্যন্ত এ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কাজী মোতাহের হোসেন তার এক লেখায় লেখেন: ‘মুসলমানদের যে গৃহ নেই তার একটা কারণ, আনন্দের উপকরণের অভাব। মুসলমানগণ গাইবে না, ছবি আঁকবে না, এক কথায় মনোরঞ্জনের চালিতকলার কোনও সংস্রবেই থাকবে না। মুসলমান পুরুষেরা কেবল কাজ করবে, আর ঘর শাসন করবে; মেয়েরা কেবল রাঁধবে, বাড়বে, আর বসে বসে স্বামীর পা টিপে দিবে . . .’। মুসলমান সমাজে পুরুষ আছে, স্ত্রী নেই; আকাঙক্ষা আছে, উদ্যম নেই; ব্যক্তি আছে, ব্যক্তিত্ব নেই। এ সমাজে পেট আছে হাত নেই; পা আছে গতি নেই; দেহ আছে, মাথা নেই; এক কথায় আমাদের সমাজ আছে, সামাজিকতা নেই। . . . -[আনন্দ ও মুসলমান গৃহ]।

আবদুল ওদুদ তার এক প্রবন্ধে ‘বুদ্ধির মুক্তি’ শব্দটি উচ্চারণ করেন। এসব থেকেই এক সময়  ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ অভিধাটি প্রচলিত হয়।  বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মূল প্রবক্তা আবুল হুসেন একাধিক প্রবন্ধে লেখেন যে কালের প্রেক্ষাপটে বুদ্ধি ও যুক্তি দিয়ে সত্যকে জানতে হবে। বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে জানা এবং বৈজ্ঞানিক যুক্তি দিয়ে জানার মধ্যে পার্থক্য আছ। গোঁড়ামি পরিহার করে যুগের আলোকে প্রয়োজনে শরিয়তের পরিবর্তনের পক্ষেও তিনি মত প্রকাশ করেন। কাজী মোতাহার হোসেনে আরেকটি প্রবন্ধে মুসলিম পরিবারের সঙ্গীত ও ললিতকলা চর্চার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ছাড়া সমাজ মানসের উৎকর্ষ সাধিত হয়না। অন্ধভাবে ধর্ম ও সমাজবিধি পালন নয়; মুক্তবুদ্ধি ও যুক্তি দ্বারা ধর্ম ও প্রথাকে যাচাই করার পক্ষে তারা জোরালো মতামত ব্যক্ত করেন। কেননা তারা ভাবতেন কালের পরিবর্তনে ধর্মশাস্ত্রের কথা মানুষ পুরোপুরি পালন করতে পারে না। যেহেতু, সংসারের উন্নতির জন্যই মূলত ধর্ম বিধানের সৃষ্টি, সেহেতু, যুগের সাথে সংসারের উন্নতির জন্য ধর্মবিধানও পরিবর্তনীয়। এসব কথা ব্যক্ত করে ইসলামের অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার এবং স্বদেশ স্বজাতির উদ্দেশ্যে ইসলামের যুক্তিনিষ্ঠ স্বরূপ উপস্থাপন করে ‘আদেশের নিগ্রহ’ নামের একটি প্রবন্ধ আবুল হুসেন লেখেন। ইসলাম সব যুগের সব স্থানের সব মানুষের সব প্রয়োজন মিটাতে ও সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না বলে তিনি মনে করেন এবং বলেন, ‘সে প্রয়োজন মিটাতে হবে আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি খাটিয়ে’। তার প্রবন্ধের এটাই ছিল সারমর্ম। এতে তৎকালীন রক্ষণশীল মুসলিম সমাজে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তারা আবুল হুসেনকে ইসলামের শত্রুরূপে আখ্যায়িত করে। আহসান মঞ্জিলের এক সালিসিতে উপস্থিত হয়ে তাকে লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে।  আবুল হুসেন পরের দিন মুসলিম সাহিত্য সমাজের সম্পাদকের পদ এমনকি সদস্য পদও ত্যাগ করেন এবং ফলশ্রুতিতে ১৯৩২ সালে আবুল হুসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে কোলকাতায় চলে যেতে বাধ্য হন। তার ঢাকা ত্যাগের ফলে আন্দোলনে ভাটা পড়ে এবং ১৯৩৮ সালের পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s