নাজিমুদ্দিন সামাদ, রাষ্ট্রের ময়লার ঝুড়িতে মুক্তচিন্তকের অব্যবহারযোগ্য শরীর

 

 

ছোটবেলা থেকে নোবেল বিজয়ী বাঙালী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান শুনে বড় হয়েছি। গানটি হল, ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে…এ জীবন পূণ্য কর… এ জীবন পূণ্য কর… এ জীবন পূণ্য কর দহন দানে…আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে।’ বাংলাদেশের মতো দুর্নীতি পরায়ন জঙ্গী হুমকির দেশে প্রগতির পক্ষে লেখালেখি করা আর ধর্মান্ধতার বিপক্ষে রাস্তায় দাঁড়ানোই আগুনের পরশমণির ছোঁবার খেলার সমার্থক। কিন্তু আগুনের পরশমণি ছোঁবার খেলায় যে হাত পুড়বে তা জানা ছিল না! আগুনে হাত দিলে হাত তো পুড়বে এ আর নতুন কি? কিন্তু আমাদের সামনে এমন কোন উদাহরণ ছিল না যে লেখালেখির জন্য মেরে ফেলা হবে। বেঁচে থাকার জন্য লিখে যাবার জন্য আজ প্রবাসে  অনিশ্চিত জীবনে এসে নিজের অতীতে তাকিয়ে মনে হয় আসলে কতোটা অনিরাপদ ছিলাম আমরা। আমাদের কোন বর্ম ছিল না, অস্ত্র ছিল না, ছিল শুধু কলম। তা নিয়ে অন্ধকারের শক্তির বিপক্ষে যুদ্ধে নেমেছিলাম। কিন্তু সেজন্য যে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘাতক অপেক্ষা করে থাকবে, এতদূর আমরা ভাবতে পারিনি।

এবার কিন্তু আঘাত এসেছে বহুল আলোচিত ‘৮৪ ব্লগারের তালিকা’ থেকে, সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নাজিমুদ্দিন সামাদ ছিল সে তালিকার ১৪ নম্বরে। ২০১৩ সালের ৫ মে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামিক উগ্রবাদী সংগঠন ‘হেফাজতে ইসলাম  বাংলাদেশ’ তার ‘ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি’র আগে ব্লগারদের ওই তালিকা করে। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে দর-কষাকষির অংশ হিসেবে ১৩ মার্চ  ২০১৩ সরকার নয় সদস্যের একটি কমিটি করে। কমিটিতে আইন, তথ্য এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও ছিল। সেই কমিটির নাম ছিল ‘পবিত্র ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কমিটি’। এ কমিটি ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যকারীর নাম আহ্বান করলে বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন থেকে কয়েকটি তালিকা দেয়া হয়। পরে জানা যায় ‘হেফাজতে ইসলাম  বাংলাদেশ’ এর দেয়া ৮৪ জন ব্লগারের একটি তালিকা থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ জন ব্লগারের একটি তালিকা করে কমিটি এবং তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই তালিকা থেকে ‘হেফাজতে ইসলাম  বাংলাদেশ’ এর সমাবেশের ঠিক আগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তালিকা তৈরি করে চার ব্লগারকে গ্রেপ্তারের পরও ‘হেফাজতে ইসলাম  বাংলাদেশ’ তাদের পূর্বনির্ধারিত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি ডেকে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরে সরকারও পুলিশী অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকার শাপলা চত্ত্বরে সে সহিংস কর্মকান্ড শক্ত হাতে দমন করে। এতে হেফাজতের সঙ্গে সরকারের দরকষাকষি ভেস্তে যায়। কিন্তু পরে আবারও সমঝোতা হয়, এ সংগঠনের আমীরকে ৩২ কোটি টাকার রেলওয়ের জমি উপহার দেয়া হয়। এবং এতদিনে (২০১৬-২০১৬) সে তালিকা থেকে ও তালিকার বাইরে থেকে ১৩ জনের মতো খুন হয়েছে।

গত ৬ এপ্রিল ২০১৬ জঙ্গীদের সর্বশেষ শিকার গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নাজিমুদ্দিন সামাদ। ৩১ অক্টোবর ২০১৫ ঢাকায় একই সময়ে দু’টি আক্রমণে একজন প্রকাশক নিহত ও অপর তিন লেখক/প্রকাশক হত্যাচেষ্টা হলে নাজিমুদ্দিন সামাদ পালিয়ে থাকে কিছুদিনের জন্য, সে তার ভাবনা ফেসবুকে লিখত, পালিয়ে থাকার দিনগুলোতে কিছুদিন ফেসবুক বন্ধ রেখেছিল। আমরা ব্লগার নিলয় চট্টোপাধ্যায়ের  খুনের ঘটনায়ও (৭ আগস্ট ২০১৫) দেখেছি নিলয় নিলয় চট্টোপাধ্যায় ঢাকা থেকে পালিয়ে দু’মাস পিরোজপুরে তার গ্রামের বাড়িতে ছিল, যখন তার কাছে সব স্বাভাবিক মনে হয়েছে সে ঢাকায় ফিরে আসে, আর জঙ্গীদের নিয়ন্ত্রিত স্লিপার সেলের তাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত খুনীরা তার জন্য অপেক্ষা করেছিল ততদিন, যখনই নিলয় নীল ওরফে নীল চট্টোপাধ্যায় জীবনের তাগিদে ঢাকায় ফিরে এসেছে তখন জঙ্গীরা আর অপেক্ষা করেনি, দিনের আলোয় তার ফ্লাটে ঢুকে তাকে হত্যা করে তারা। নাজিমুদ্দিন সামাদকেও অনেক দিন ধরে নজরবন্দী রেখেছিল খুনীরা, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। সিলেট থেকে সে ঢাকা চলে যায়, খুনীরাও তার পিছু নিয়ে চলে আসে ঢাকায় এবং তাকে হত্যা করে। তার ঘিলু বেরিয়ে গিয়েছিল, সব রক্ত শরীর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, সংবাদপত্রে সে ছবি দেখে মনে হয়েছিল যেন এক ব্যাগভর্তি রক্ত হঠাত ফেটে বেরিয়ে গেছে।

নাজিমুদ্দিনের লেখা পড়ে জানা গেছে সে সাহসী ছিল, তাকে নিয়ে সহযোদ্ধারা আশঙ্কা প্রকাশ করলে সে লিখেছিল: ‘মাথা নত হয়ে এ ‍চুপ হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে এ মরণই বোধ হয় ভালো।’ ৩ এপ্রিল ২০১৫  ফেসবুক পোস্টে সে লিখেছিল:’মুসলিম শব্দটা এখন শুওরেরও যোগ্য নয়। কেনিয়ার ১৪৭ জনকে হত্যা করেছে মুসলিমরা। ছি: মুসলিম, ছি:!!! ইসলামকে ঘৃণা করতেও ঘৃণা হয়।’ সে জানতো আজ হোক কাল হোক তাকে মারা হবে, কেননা তার নাম ‘৮৪ ব্লগারের তালিকা’য় ছিল, এবং সে তালিকাভুক্ত কয়েকজন ইতোমধ্যে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু উগ্রবাদীদের বিপক্ষে তার শ্লোগান ও লেখালেখি থামানো যায়নি,  দেশকে প্রচণ্ড ভালবাসত সে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলমান জঙ্গী কর্মকান্ডের মূল শেকড়ে আঘাত হানতে সে লেখালেখিতে ও গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল।

আমরা জানতাম জঙ্গীরা আবার আক্রমণ করবে। কেননা যারা ধরা পড়ছিল তারা জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসছিল। ২০১৫ এর ৩১ শে অক্টোবরের পরে লেখক, প্রকাশক, ব্লগার, অনলাইন এক্টিভিস্টদের ওপরে আর কোন আক্রমণ হয়নি। সকলে একটু ফুরফুরে ছিল, একটু অসতর্ক, শ্বাস ফেলছিল হাওয়ায়, তখনই নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যার ঘটনা। টাইম মেশিন বলে কিছু নেই  আমাদের কাছে, যদি সত্যি টাইম মেশিন আমাদের হাতে থাকতো তাহলে হয়তো আমরা নাজিমুদ্দিনকে ফিরিয়ে আনতে পারতাম। কিন্তু এসব আবেগের কথা, যার দাম নেই যুদ্ধের ময়দানে। তাই শোককে শক্তিতে পরিণত করি বারবার।

কিন্তু ওর হত্যাকান্ডের পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মন্তব্যে আমরা আবারও আহত হলাম, হতাশ হলাম। বুঝতে পারলাম রাষ্ট্র আমাদের বাতিলের খাতায় নাম লিখিয়েছে। এতগুলো খুনের পরেও নয়তো কেন তাদের বোধদয় হল না? রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের তাদের এ খেলা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসবাদের যে খাদের কিনারে পৌঁছে দিচ্ছে একদিন সেখান থেকে ফেরার পথ থাকবে না। নাজিমুদ্দিন নেই, ওর অল্প কয়েকটা লেখা আর ওর খালি গায়ে বুকেপিঠে লেখা ‘রাজাকারদের বিচার চাই’ ছবিটা শুধু থাকবে। একদিন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী হিসেবে নিজের যে শরীরটাকেও সে  অস্ত্র বানিয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে সে শরীরটাকে রাষ্ট্রও পরিত্যক্ত ঘোষণা করল। এবং ঘোষণা দিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং, কেননা তার হত্যাকান্ডের তাতক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: ‘আগে খতিয়ে দেখতে হবে কি ছিল তার লেখায়।’ কেউ কিছু লিখলেই তাকে হত্যা করা জায়েজ হয়ে যায় না।  একটি স্বাধীন সার্বভৈৗম দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কথা কেন বলবেন? ভিন্নমত পোষণকারী সকল নাগরিকের নিরাপত্তার দায় রাষ্ট্রের। একটা প্রশ্ন উঠে আসে আমরা বাংলাদেশের নাগরিকরা বারবার রাজনৈতিক দলের নেতাদের হাতবদল হয়েছি মাত্র। বাক প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই, নারীদের  স্বাধীনতা নেই, বেঁচে থাকার অধিকার নেই। জেনারেশনের পর জেনারেশন হত্যাকান্ডের স্বীকার হচ্ছে। আসলে বাংলাদেশ কি কখনো স্বাধীন ছিল? স্বাধীনতার নামকাওয়াস্তে একটা ঘোষণা আমরা পেয়েছিলাম ১৯৭১ এ। কিন্তু বাংলাদেশ আবার এসে পড়েছিল রাজনীতিকদের হাতে। তার ধর্মকে ব্যবহার করেছেন, মদদ দিয়েছেন। যার ফলশ্রুতি হচ্ছে এখন বাংলাদেশে ইসলামিক জঙ্গীদের ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা আর আল্লাহর নামে উতসর্গিত এসব হত্যা।

খুনীরা নাজিমুদ্দিনকে হত্যার পর পরেই অস্তিত্ব জানিয়ে দিয়েছে, এক তাতক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কুমিল্লায় এক সভায় উগ্রবাদী ইসলামিক সংগঠন ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ এর আমীর আল্লামা শফি জানান যে, তিনি ডাক দেয়া মাত্রই মুসলমানদের নাস্তিক বিরুদ্ধে জেহাদে নামতে হবে। তারপরও সরকার খুনীকে খুঁজে পাবে না। পুলিশ সারা দেশময় ছাইয়ের গাদায় সুই খোঁজার মতো করে স্লিপার সেলের খুনীদের খুঁজে বেড়াবে। অথচ তাদের মাস্টারমাইন্ডরা সামনে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে আর সরকার লেখকরা কি লিখছে তার তদন্ত করে বেড়াবার নির্লজ্জ ঘোষণা দেবে। দায়সারাভাবে প্রথম ব্লগার হত্যাকান্ডের (রাজীব হায়দার হত্যা, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩) বিচারকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সেখানে মাস্টারমাইন্ড  সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ  বাংলা টিমের নেতা জসীমউদ্দিন রহমানীকে মাত্র পাঁচ বছর জেল দেওয়া হয়েছে। এইচ এম এরশাদ এর মতো বিতর্কিত স্বৈরাচারী সেনানায়ক এখন ক্ষমতার ভাগীদার হয়ে নাজিমুদ্দিন সামাদ খুন হবার পরে বলে যে: ‘ব্লগার খুন হলে সারা বিশ্ব কাঁদে কিন্তু আলেমরা খুন হলে কাঁদে না।’ আমার প্রশ্ন আলেমদের খুন করে কারা? ব্লগাররা করে না নিশ্চয়ই। তাই এ কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জনের মানে  হল প্রায় ৯৪% মুসলিম জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতি করা ! মোটকথা ভোটভিক্ষার নামে দেশকে আরো মৌলবাদের কব্জায় নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করছে প্রগতিশীলতার মুখোশ পরা রাজনীতিকেরা।

নাজিমুদ্দিন সামাদকে মৌলবাদীরা হত্যা করেছে একবার। কিন্তু রাজনৈতিক নেতারা যারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষ তারা  এসব কথা বলে তাকে বারবার হত্যা করতে চেয়েছে, এবং তার হত্যাটিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে যাতে এ নিয়ে তেমন কোন আন্দোলন না হয়, যে কারণে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এভাবে দু-একজন ব্লগারকে হত্যা করে ক্ষমতার পরিবর্তন করা যায় না।’

গত কয়েকদিন মোল্লা তোষণ করা এসব কথাবার্তা আমরা কেবলি দেখেছি আর হেসে উঠেছি। ৩১ অক্টোবর ২০১৫ ঢাকায়  নিজ অফিসে জঙ্গীদের হাতে নিহত ‘জাগৃতি’ প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনের পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেছিলেন, ‘সন্তান হত্যার বিচার চাই না’, পরে দীপনের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করে। নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যার  ক্ষেত্রেও তার পরিবার মামলা করেনি, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। বাংলাদেশে প্রবহমান বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে খুনের বিচার না চাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রতি আস্থাহীনতার বড় প্রতীকী প্রতিবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা চিরঞ্জীব মৃত্যুঞ্জয়ী নাজিমুদ্দিন সামাদের হতভাগ্য শরীরের ছবি দেখে ডুকরে উঠি। নিজেকে বলি আমি শোকাহত, কিন্তু পরাজিত নই। আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে, আবার দ্রুত কলম চালাতে হবে আমাদের।

১০-০৪-২০১৬

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s