নভেম্বরের রাতে, আমার স্বদেশ কাঁদে

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ লিখেছিলেন:‘’জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন’’। দিনদিন সে শকুনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। সেসব শকুনেরা, শকুনের সন্ততিরা, শকুনের সন্তন্তির সন্তন্তিরা এখনো খামচে চলেছে দেশমাতৃকাকে, পতাকাকে, সংখ্যালঘুদের, বাঙালী জাতীয়তাবাদকে। ’মানবতাবিরোধী অপরাধ’ শব্দটি বাংলাদেশে শুধু ১৯৭১ এর বাংলাদেশী যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে গত কয়েক বছর ধরে, বাংলাদেশী নিজ বিশ্বাসঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবার পর থেকে। অথচ, জাতিগত উচ্ছেদ, সাম্প্রদায়িক আক্রমণ–এসবও আক্ষরিক অর্থে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে স্বীকৃত সারাবিশ্বে। সে কারণে একেকজন সংখ্যালঘু নিপীড়ক হল একেকজন মানবতাবিরোধী অপরাধী, আর মানবতাবিরোধীরা হল সংখ্যালঘু নিরযাতনকারী।

প্রতি বছর বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরে একের পর এক হামলা আমরা দেখছি। এবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সে শকুনদের মিছিল দেখেছি, সে মিছিল থেকে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপরে, অন্যদিকে পুলিশও আদি জনগোষ্ঠী সাঁওতালদের ৩ জনকে হত্যা করেছে–অথচ এ জনগোষ্ঠী ভারতের স্বাধীনতার জন্য প্রথম প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল ১৭৭০-১৭৮৪ সালে ঝাড়খণ্ডে। বাংলাদেশ পুলিশ ব্রিটিশ রাজের নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় গুলি চালিয়েছে, কেননা নীতি খুব সোজা, জমি কেড়ে নাও, ভাগ করো, এমনিতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে আপন জনগোষ্ঠী থেকে, মিশে যাবে মিশ্র রক্তের জাতির স্রোতে, লুপ্ত হবে তাদের আপন গৌরব, আপন জাতিসত্ত্বা। কথিত আছে, চিনিকল, পাটকল নামের কলকারাখানাগুলোতে মানুষের রক্ত না পেলে নাকি ভাল ফলন হয় না। আমাদের উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের রক্তের ছিটে ছিটে দাগ লেগে থাকে, লেগে থাকে পূর্নিমা শীলের ধর্ষণ, বৌদ্ধমূর্তির পোড়া ও ভাঙা চোরা অবশিষ্টাংশ, দ্বিজেন টুডুর গুলি খাওয়া চোখ, ৩ সাঁওতালের লাশ, পাহাড়ে কল্পনা চাকমার গুম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ‍মুক্তচিন্তকের ধড় থেকে আলাদা হওয়া ফুটপাতে পড়ে থাকা লাশ, মুক্তিযোদ্ধার ১১ কোপে মৃতদেহ, বাক স্বাধীনতা হরণকারী কারাগারের নির্জন সেলে বন্দী ছাত্রনেতার দীর্ঘ হয়ে ওঠা ছায়া।

গত ৩১ অক্টোবর ফেসবুকে মুসলিমদের ধর্মীয় স্থান সুদূর সৌদি আরবের কাবা শরীফের ওপর শিবের মূ্র্তি স্থাপন করা একটি ফটোশপড ছবি অজ্ঞাত আইডি থেকে পোস্ট করা হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাসিরনগরে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা হয়। ভুক্তভোগীদের মতে পাকিস্তান আমলে বা ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময়েও তাদের ওপর এমন ভয়াবহ আক্রমণ করা হয়নি। সে ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় রসরাজ দাস নামের এক জেলেকে, অনুসন্ধানে জানা যায় ওরকম একটি ছবি ফটোশপড করার মতো সে যথেষ্ট শিক্ষিত না হলেও তার আইডি হ্যাক করে কোনভাবে পোস্ট করা হয়েছে ছবিটি, এবং অন্যান্য ফেসবুক আইডি থেকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে শেয়ার করে, যা দেখে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় জনতা। ফেসবুকে ইসলামের অবমাননার অভিযোগ তুলে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫টি হিন্দু মন্দিরে হামলা ভাঙচুর চালানো হয়, এর নেপথ্যে ছিল ইসলামী ঐক্যজোট, হেফাজতে ইসলাম। এর আগেও আমরা চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জে এসব ইসলামিক প্রক্সি দলগুলোর বিস্ময় করা উত্থান দেখেছি, ঠিক সেভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও। এভাবে করে এক এক জেলা করে বাংলাদেশকে পাল্টে দেয়া হচ্ছে। এ বছরের শুরুতে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুর সম্রাট আলাউদ্দিত খাঁ’র স্মৃতিবিজড়িত সঙ্গীতাঙ্গন ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে এসব ইসলামিক দলের কর্মীরা। ২০১৪ সালেও জেলা প্রশাসক কর্তৃক আয়োজিত ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ানন্দ নামে বিজয় দিবসের কনসার্ট বন্ধ করে দেবার দাবীতে কয়েক হাজার ইসলামিক একটিভিস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিছিল-সমাবেশ করে। ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে যেভাবে বৌদ্ধবসতিতে হামলা হয়েছিল, একই রকম কায়দায় হামলা সংঘটিত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গত ৩১ অক্টোবরে। ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত’ এর ব্যানারে উগ্রবাদী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নাসিরনগরে প্রতিবাদ সমাবেশ ডাকে, সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। অবরোধ থেকে একটি অংশ দেশি অস্ত্র নিয়ে নাসিরনগর সদরের দত্তবাড়ির মন্দির, নমশুদ্রপাড়া মন্দির, জগন্নাথ মন্দির, ঘোষপাড়া মন্দির, গৌরমন্দির গুঁড়িয়ে দেয়; এছাড়া উপজেলা সদরের দত্তপাড়া, ঘোষপাড়া, গাংকুলপাড়া পাড়া, মহাকাল পাড়া, কাশিপাড়া, নমসুদপাড়া, মালিপাড়া, শীলপাড়ায় হিন্দু বাড়িঘরে হামলা করে। ভাঙচুর, লুটপাট, ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরবাড়ি কোপায়, নারীদের শ্লীলতাহানি ও মারধর করে। ১০-১৫টি মন্দিরের পাশাপাশি ১৫০টির বেশি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

Nasirnagar-01.jpg

এরপর পর দেশে অন্যান্য জেলাশহরে হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িতে ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়। যেমন পিরোজপুরে, হবিগঞ্জের মাধবপুরে, ঝালকাঠির সদরে, নওগাঁয়। নাসিরনগরে মোট ৪ দফায় আগুন দেয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর গ্রামে ভুপেশ মাঝির বাড়িতে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে নিয়তি চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এছাড়া সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন কুমার দেবের বাড়িতে দু’বার আগুন দেয়া হয়েছে।

এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিষ্ক্রিয়। প্রশ্ন জাগে মনে, বাংলাদেশ সরকার কি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব বাতিল করেছে? প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের ভূমিকা রহস্যজনক। তিনি হিন্দুদের ‘মালাউন’ বলে উল্লেখ করেন তার এক বক্তব্যে। ’মালাউন’ শব্দটির অর্থ হল ‘অভিশপ্ত’। অথচ এ অভিশপ্ত জনগোষ্ঠী ১৯৭১ এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখে, সম্মুখ যুদ্ধ করেছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন চোখে নিয়ে। পার্শ্ববর্তী আরেকটি মালাউন সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ভারত সে যুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল সবক্ষেত্রে। দেশ মাত্র ৯ মাসের মধ্যে স্বাধীন হয়ে যায়। আজ এত বছর পর ইতিহাসের দিকে তাকালে মনে হয়, যদি এত দ্রুত দেশ স্বাধীন না হত বাংলাদেশীরা হয়ত স্বাধীনতার মর্ম আরো বুঝতে পারতো বেশি করে। যেমন আমরা যদি এখন পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো যে তারা ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বারা নিগৃহিত হচ্ছে, তারা এখনো স্বাধীনতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সে স্বাধীনতাকামী আন্দোলনকে দমানোর জন্য পাকিস্তান এমন কিছু নেই যে করছে না, তারা একই রকম দমনপীড়ন, খুন, ধর্ষণ করছে বেলুচিস্তানে যা তারা করেছিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষের ওপরে। সরকারের পক্ষ থেকেও মন্ত্রী ছায়েদুল হককে সমর্থন জানানো হয়েছে, বলা হয়েছে তার কোনো দোষ মন্ত্রী পরিষদ খুঁজে পায়নি। এ মন্ত্রীর অন্যান্য ভিডিওতে দেখা গেছে প্রচণ্ড রাগী, কথাবার্তায় অশিষ্টাচার, বদমেজাজী চরিত্রের একটা লোক কিভাবে মন্ত্রীর স্থানে বসতে পারে। এসব কারণে গত বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সংসদকে ‘পুতুল নাচের নাট্যশালা’ বলে মন্তব্য করেছিল।

Nasirnagar2-450x253.jpg

যদি এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সুরকার ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতায়ন পশ্চাদপর উগ্রবাদীদের দ্বারা ধ্বংস করে দেয়ার ঘটনায় মূল জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা যেত, সরকার যদি তা করতো তাহলে হয়তো অন্তত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণের ঘটনা আমরা দেখতে পেতাম না। কিন্তু তা হবার নয়। বাংলাদেশে কোন সরকার সংখ্যালঘুদের ওপরে আক্রমণের ঘটনায় বিচার করে না। কেননা তাদের ওপরে চাপ থাকে ইসলামিক দেশগুলোর, ইসলামিক দেশগুলোর সমর্থন বাংলাদেশ হারাতে চায় না। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভোট হারানোর ভয় থাকে। জামাত ইসলামকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করে গত কয়েক বছরে রাজপথ থেকে হটিয়ে দিয়ে তারা এখন কিছু সুবিধাভোগী ইসলামিক দলকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তার খেসারত দিতে হচ্ছে সংখ্যালঘুদের। আমি এখানে সংখ্যালঘু বলতে নাস্তিক, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিয়া, এমনকি মুক্তিযোদ্ধাও বলছি। এর মাঝে এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে, তার গায়ে ১১ টি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে, সে মামলার প্রধান সাক্ষীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। অন্য এক মুক্তিযোদ্ধার হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে যে হাত দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। যার ধারাবাহিকতায় নারায়নগঞ্জের সাংসদ হয়ে উঠছেন আওয়ামী লীগের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ভোকাল, এর আগে নিজ এলাকায় নারায়নগঞ্জে এক হিন্দু প্রধান শিক্ষককে ইসলামের নামে কটুক্তির মিথ্যে অভিযোগে কান ধরে ওঠবস করে সারাদেশ ব্যাপী সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তার কিছু হয়নি, তিনি বহাল তবিয়তে আছেন, এবার সেলিম ওসমান বলেছেন: ‘ধর্মে ধর্মে কোনও বিরোধ নেই। বিরোধ রয়েছে কিছু ধর্মবিরোধী উগ্র নাস্তিকদের সঙ্গে। যাদের ঈমান নাই তারা নাস্তিক। এদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। নাস্তিকদের খুঁজে বের করেন। যারা উচ্ছৃঙ্খল ও ধর্ম মানে না তাদের চিহ্নিত করুন। আমাদের গোপনে নাস্তিকদের বিষয়ে জানান, প্রয়োজনে ওইসব এলাকায় সভা করে তাদের ফিরিয়ে আনবো। তাহলেই সারাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।’ কদিন আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক মন্তব্য করেন: ’আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ার জন্য।  এ দেশে আমরা সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করি। এ দেশ একটি অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির দেশ। ইসলাম বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম থাকা উচিত নয়। সুযোগ পেলেই সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তুলে দেওয়া হবে।’ তার এ মন্তব্যকে ব্যক্তিগত বলে অভিহিত করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তিনি বলেন:’‘সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি একটি মীমাংসিত বিষয়। মীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে কেউ কোনও মন্তব্য করে থাকলে, এটি তার একান্ত নিজস্ব বিষয়।’ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, তিনি ড. আবদুর রাজ্জাকের বক্তব্যকে উস্কানিমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ ধরনের ছোট ছোট দলগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে বাংলাদেশে, যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রক্সি দিচ্ছে বড় বড় দলগুলোকে।

nasirnagar-attac

সুতরাং বিচার কিছু হবে কি? সাংবাদিকরা যখন মন্ত্রী ছায়েদুল হকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন প্রশ্নটা কেমন যেন পরিহাসের মতো শুনাচ্ছিল। তবে তার উত্তরটা যথোপযুক্ত হয়েছে, তিনি বলেছেন:’’ওইটা আল্লাহরে গিয়া জিগান।’’ রাজধানীর শাহবাগ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর অভিমুখী ১৮ নভেম্বরের লং মার্চের আগেই তড়িঘড়ি করে ভেঙে দেওয়া প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। ওপর মহলের নির্দেশে (!) স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তড়িঘড়ি করে মন্দিরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে কৌশলে মন্দির থেকে মূর্তিগুলো বির্সজনের ব্যবস্থা করে। ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন, অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেই কি তা ইতিহাস থেকে মুছে যায়? যদিও আজ ’বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে, কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, তার প্রতিদান একদিন সে ফিরিয়ে দেয়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s