বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা এখন সংখ্যালঘু

5505982681_3272473bdf_z

স্বাধীনতার সাড়ে চার দশক হতে চলল। আমাদের গর্ব, যারা আমাদের মাত্র ৯ মাসে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিল তারা মুক্তিযোদ্ধারা আজ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু। কেননা অনেক মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন সম্মুখ সমরে ১৯৭১ সালে। বাকী যারা বেঁচে ছিলেন তাদের দেখতে হয়েছে তারা যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলেন তাদের চোখের সামনে সে স্বপ্ন হয়েছে ভূলুন্ঠিত। স্বৈরশাসন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, মাদক, অশিক্ষা, ভিন্ন ধর্মালম্বীদের দেশত্যাগে বাধ্য করা, ধনী-গরীব বৈষম্য বৃদ্ধি, জঙ্গীবাদের প্রসার সব মিলে দেশকে-তরুণ সমাজকে ক্রমে নিয়ে যাচ্ছে খাদের কিনারে।

১৯৭১ এর পরে বেঁচে থাকা অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের-মুক্তিযোদ্ধা সৈন্যদের হত্যা করা হয়েছে রাজনৈতিক পালাবদলের সময়ে বাংলাদেশে, কেউ মারা গেছেন পরে বয়সের ভারে, কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাননি, পাননি যথাযোগ্য সম্মান। কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন পরবর্তীতে। বহু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাননি, তালিকাভুক্ত হননি। তার কারণ নির্লজ্জ রাজনৈতিক দলীয়করণ। বেশীরভাগ মুক্তিযোদ্ধা দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত। এছাড়া প্রশাসনে পাকিস্তানপন্থীদের ঢুকে পড়া ও লুটেরা রাজনীতি মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্দশার কারণ। এমনকি তারা নিপীড়িত বা আক্র্রমণের স্বীকারও হয়েছেন ক্ষমতাসীনদের দ্বারা বারবার, যা আমাদের জন্য লজ্জার, ঘৃণার, বাঙালী জাতি-বাংলাদেশী হিসেবে আত্মধিক্কারেরও।

তেমন এক মুক্তিযোদ্ধা শেখ আছাদুর রহমান। ২০০০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গোপালগঞ্জ জেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন তিনি। পূর্বশত্রুতার জের ধরে ফাঁসানো হয়েছে তাকে হত্যা মামলায়, বিতাড়িত করা হয়েছে ভিটেমাটি থেকে। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার হরিদাশপুর গ্রামে। এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে কিছু দুর্বৃত্তরা তার বাড়ির থেকে বেশকিছু দূরে সাবেক শ্রমিক নেতা বাসুর উপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় শ্রমিক নেতা বাসু গুরুতর আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হলে পরদিন সে মারা যায়। ওই দিন রাতেই মুক্তিযোদ্ধা শেখ আছাদুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়, তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমকে কুপিয়ে জখম করা হয়, বাসু হত্যা মামলায় তাকে আসামী করা হয়। তিনি গোপালগঞ্জ বাস ট্রাক মালিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। নিহত বাসু ও মুক্তিযোদ্ধা শেখ আছাদুর রহমানের ভাতিজা বুলবুল শেখ দু’জনই সাবেক শ্রমিক নেতা ছিলেন। গোপালগঞ্জ বাস ট্রাক মালিক কমিটির নির্বাচনে তারা দু’জনই প্রার্থী ছিলেন। বাসুর সঙ্গে তাদের কোন দ্বন্দ ছিল না, কারা তার উপর হামলা করেছিল তাও তিনি জানেন না। তবে বাসু হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে যারা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল তাদের সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ছিল। তার পরিবারের সুনাম যাতে নষ্ট হয় এবং তার ভাতিজা বুলবুল শেখ যাতে নির্বাচন করতে না পারে সেজন্য পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নিজেদের ফায়দা লুটতে তারা শুধু তাকে হত্যা মামলার আসামিই করেনি, তার পরিবারের উপর হামলা করেছে, সকলকে বাড়ি ছাড়া করেছে, তার বাড়ি থেকে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ৪০ বছর ধরে যত্ন করে তিনি যে সংসার সাজিয়েছিলেন, তার কোন কিছুই এখন আর নেই, পানি খাওয়ার একটা গ্লাসও তার বাড়িতে গেলে এখন আর পাওয়া যাবে না।

img_6007

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রভাবশালীরা কেউই এগিয়ে আসেননি। তার স্ত্রীর উপর হামলার পর থানায় অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ কর্ণপাত করেনি, উল্টো তার অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট বলে পুলিশ রিপোর্ট দিয়েছে। এতো হেনস্থার পরও আইনের প্রতি জানিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পন করে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন এখন তিনি।

এ মাসে (নভেম্বরে) ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের টেন্ডারবাজ চক্রের হাতে আক্রমণের স্বীকার হন ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার আহমেদ মৃধা। তাকে প্রকাশ্যে রড দিয়ে পেটানো হয়। তার ছেলে তাকে বাঁচাবার জন্য এগিয়ে এসে সেও আক্রমণের স্বীকার হয়। মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার আহমেদ মৃধার হাতে পরপর তিনবার অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসা খরচ নিজেরাই বহন করেছেন। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে তিনি একটা টেন্ডার জমা দেন ১৭ অক্টোবর। পরদিন টেন্ডার ওপেন হলে চারটি রাস্তা সংস্কারের ওই টেন্ডার তার ফার্ম পেয়ে যায় লটারিতে। টেন্ডার চক্র ওই দিনই স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগের কিছু লোকজনকে দিয়ে একটি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তার ওপর হামলা চালায়। ওই চক্রতে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, শৈলকূপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, এবং এমপির এপিএস প্রমুখ। এমপির প্রতিষ্ঠান জিসান ট্রেডার্স, ভাইস চেয়ারম্যানের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোল্লা এন্টারপ্রাইজ,  এমপির এপিএস এর প্রমা এন্টারপ্রাইজ–মূলত ঝিনাইদহ জেলায় এ তিন লাইসেন্সের বাইরে কেউ টেন্ডার ড্রপ করতে পারে না। কিন্তু কাজ পাওয়ার আশায় মুক্তার আহমেদ মৃধা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার জমা দেন। ফলাফল হিসেবে তারা তার এ অবস্থা করে। এ হামলার পর একটি মামলা হয়, কিন্তু আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা তুলে নেয়ার ব্যপারে একের পর এক হুমকি আসছে। যাদের পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, তারা ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জামিনে বেরিয়ে এসেছে। তার ছেলে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে যদিও, তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে—‘বাড়ি ভেঙে দেব, মেরে ফেলবো, কাজ করতে দেব না।’ আক্রমণকারীরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের হওয়ায় তাদেরকে অসহায়ের মতো হুমকি সহ্য করতে হচ্ছে।

muktizudda-hurt

তিনি বলেন: ‘’যে দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, আর যে দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলায় শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, সে দেশে আমি সামান্য একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি কিভাবে ছাড় পাব। যখন যুদ্ধ করেছি, তখন শত্রু-মিত্র চিনতাম। এখন চিনি না। অর্থ, প্রতিপত্তি, দম্ভের কাছে আমরা পরাজিত। এর চেয়ে একাত্তরে যে সহযোদ্ধারা শহীদ হয়েছেন, তারা ভালো আছেন। মরে গিয়ে তারা বেঁচে গেছেন।’’

অন্যদিকে এ মাসে ১৪ নভেম্বরে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরে আব্দুস ছালাম খান  নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  তিনি পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়ার শিয়ালকাঠি এলাকার বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। হত্যার অভিযোগ পাওয়ায় ভান্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজাস্থল থেকে ওই মুক্তিযোদ্ধার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন রাজাপুরের সাতুরিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাচ্চু ও তার সহযোগি শাহ আলম  হাওলাদার নামে দুই ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে গ্রামের আমতলা ঈদগাহ মাঠের কাছে ওই মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা চালায়। পরে হামলাকারীরা তাকে গুরুতর অবস্থায় ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ সময় হামলাকারীরা ওই মুক্তিযোদ্ধা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত  হয়েছে বলে হাসপাতালে তার ভুয়া নাম ঠিকানা লিখে রেখে চলে যায়। পরে তিনি মারা যান। তার শরীরে ১১ টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ  হত্যার প্রধান সাক্ষী শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার মুক্তা ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকির দেওয়া হয়। প্রাণের ভয়ে ওই শিক্ষিকা ও তার পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেন। এমনকি ওই শিক্ষিকা জীবনের নিরাপত্তা না পেলে নিজেই আত্মহত্যা করবেন বলে অজ্ঞাত স্থান থেকে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠান।

১৯৭৪ সালের ২৭ নভেম্বর নভেম্বর ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ: মাজেদ ওরফে মজিদকে তৎকালীন ত্রিশাল থানা শান্তি কমিটির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এবং আহমদাবাদ রাজাকার ক্যাম্পের কমান্ডার আনিসুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে কতিপয় রাজাকাররা আহমদাবাদ কলেজ মাঠে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে । বিচারহীনতার কয়েক দশক পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লোকমান হেকিম বাদী হয়ে এ বছর ৮ মার্চ ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরো কয়েক জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ও বর্তমান সরকার ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করায় অনেক বছর পরে হলেও তিনি মামলাটি দায়ের করেন। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা মজিদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এলাকার চিহ্নিত  রাজাকাররা প্রথমে পায়ে ও পরে বুকে গুলি করে এবং পরে অন্যান্য রাজাকাররা কুপিয়ে হত্যা করে তার লাশ রেলস্টেশনে ফেলে রেখে পৈচাশিক আনন্দ উল্লাস করতে করতে চলে যায়, সেদিনকার প্রত্যক্ষদর্শীরা এমন বর্ণনা দিয়েছেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্রগ্রামে সামরিক অভ্যুথানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর মেজর মঞ্জুরসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল এবং গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

১৯৯৯ সালের ২ রা নভেম্বর চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ঊষাখাইন গ্রামে ক্রিকেট খেলা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়,  এর জের ধরে মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

২০০৮ সালে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দু’গ্রপের সংঘর্ষ থামাতে গেলে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে।

আওয়ামী লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এর প্রধান আসামী সেখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য।

২০১৫ সালের ২৬ আগষ্ট খুলনার বয়রা এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

এ বছর, ২২ মার্চ কুড়িগ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গী সংগঠন জেএমবি। হত্যার কারণ হিসেবে জানা যায় সপরিবারে ধর্মান্তরিত হওয়া। সেদিন সকালে সদ‌রের গাড়িয়ালপাড়ার আশরাফিয়া প্রাথমিক বিদ্যাল‌য়ের পাশে মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী (৬৫) তার নিজ বাসার পার্শ্ববর্তী রাস্তায় হাঁটছিলেন। এসময় পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা ৩জন জঙ্গী তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে হত্যা করে। এরপর জঙ্গীরা ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়। নিহত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী আজ থেকে ১৭ বছর আগে স্বপরিবারে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন।

– ২৬ মার্চ নরসিংদী জেলায় শিবপুর থানার বিরাজনগর গ্রামের আব্দুল হাই (৬২)কে বাড়ীর সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

– ১৭ জুন ফরিদপুর বোয়ালমারী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা রাজা মৃধা (৬৬) নামে পুলিশের সাবেক এক সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

– ১১ জুলাই জামালপুর রেলস্টেশনে টিকিট কাটা নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলওয়ে থানা পুলিশের পিটুনিতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্যারেড কমান্ডার মোঃ আব্দুল বারী (৭০) নিহত হন।

– ২৭ সেপ্টেম্বর শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মাদবর (৬০) কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

– ২৪ অক্টোবর নরসিংদী জেলার মাধবদীর কাঠালিয়া কেরারকান্দার মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন হযরত আলী (৭২) খুন হন ‍নির্বাচনী পোস্টার লাগানো নিয়ে বাকবিতন্ডার জেরে পিটুনিতে।

পরিসংখ্যান বাড়িয়ে লাভ নেই। একটি চিত্র দিলাম, যাতে পরিস্থিতি অনুধাবন সহজ হয়। যাদের পাওয়ার কথা ছিল সর্বোচ্চ সম্মান স্বাধীন দেশে, অথচ তারা স্বাধীন দেশে পেয়েছেন অবিচার। অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার খবর আমরা পত্রিকায় পাতায় দেখি তারা এখনো অবর্ণনীয় জীবন সংগ্রাম করে চলেছেন বেঁচে থাকার জন্য। শুধুমাত্র কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ভাতা দিয়ে আর তাদের জন্য লাল-সবুজ বাড়ি তৈরি করে দিয়ে সমাজের এ অধঃপতন থামানো যাবে না। এ জন্য দরকার মুক্তিযোদ্ধা হত্যার প্রতিটি সুষ্ঠু ও কঠিন বিচার, জাতির সূরযসন্তানদের হত্যার বিচারে হতে হবে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি। এবং মানুষকে জানাতে হবে তাদের অবদান কি বাংলাদেশে গঠনে? যাতে কোন সুযোগসন্ধানী ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে না পারে, না বলতে পারে যে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেয়া হারাম, সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে খেপিয়ে তুলতে না পারে। গ্রাম-ওয়ার্ড-ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগ, দেশভিত্তিক সাহসী মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে শেয়ার করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলার অনুষ্ঠান করতে হবে, তাদের জীবনমান উন্নয়নে সাহায্য করতে হবে, সুযোগসুবিধা দিতে হবে, পুরুস্কার-সম্মাননা দিতে হবে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নীতি প্রণয়নে তাদের যৌক্তিক ও সময়োপযোগী পরামর্শ অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টা পরাবে কে?

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s