এবারের বিজয় দিবসে কি পেলাম, কি পেলাম না?

15068351_1350395991639518_4207265259882910917_o

বিজয় দিবস, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬। বিজয় দিবস বাংলাদেশীদের জীবনে অন্যতম তিনটি তাৎপর্যপূর্ণ দিনের একটি। ৯ মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর প্রায় ৯১,৬৩৪ সদস্য বাংলাদেশ ও ভারতের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। এর ফলে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে একটি নতুন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।  ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে বিজয় দিবস রাষ্ট্রিয়ভাবে পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ জাতির জন্য একটি গুরুত্বপর্ণ ঘটনা, চলচ্চিত্র, কবিতা, নিবন্ধ, গণমাধ্যম ইত্যাদি বিভিন্নভাবে এই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়। এই দিন উপলক্ষে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের আয়োজন করে থাকে, এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান, মতবিনিময় সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। দেশের প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। এই দিনে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। বিজয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি (জিয়ানগর) উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারাবন্দী ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধী দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী। তিনি ১৬ ডিসেম্বর সকালে বিজয় দিবসের প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন। এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা এবং পুরষ্কারও তুলে দেন এই যুদ্ধাপরাধীপুত্র। পুরষ্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার বাদীও রয়েছেন। উল্লেখ্য যে মাসুদ সাঈদী ইন্দুরকানি (জিয়ানগর) উপজেলা চেয়ারম্যান, সে ২০১৪ সালে স্থানীয় মৌলবাদপ্রিয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। অনেকে বলে থাকে রাজাকারপুত্র হলে কি সেও রাজাকার হবে? আমরা অন্তত বাংলাদেশে সে রকমটি দেখছি, এবং প্রত্যেক যুদ্ধাপরাধীর রাষ্ট্রীয় আইনে সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর হবার পরে তাদের সন্তানরা মাথানত না করে উল্টো তারা বিজয়ী হয়েছে বলে মনে করেছে, কেননা তাদের পিতারা কোথাও আত্মসমর্পণ করেননি বা রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেননি, এবং আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ দেয়ার জন্য তারা জান্নাতবাসী হবে বলে মনে করে বিজয়চিহ্ন (ভি-চিহ্ন) প্রদর্শন করেছে মিডিয়া ক্যামেরার সামনে। অন্যদিকে মাসুদ সাঈদী তার পিতা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী নেতা, ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী দল জামায়াত ইসলামী নেতা ও ইসলামিক বক্তা যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির জন্য নানারকম প্রচার-প্রচারণা জারি রেখেছেন, অনলাইনেও তার নিজের পেইজে সেসব করছেন, এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে তার পিতাকে নির্দোষ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধীপুত্রের অতিথি হওয়া ও মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়াকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধকে অপমান বলে আমারও মনে হয়েছে। মাসুদ সাঈদী তা গর্ব করে প্রচারের জন্য নিজের ফেসবুকে তুলে দিয়েছেন। কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা পুরষ্কার তুলে দিচ্ছেন মাসুদ সাঈদী। এসব ছবি ফেসবুকে যুক্ত করে মাসুদ সাঈদী লিখেছেন-

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জিয়ানগর উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান।পুরষ্কার নিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব বেলায়েত হোসেন, বর্তমান উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার রায়, সাবেক কমান্ডার মাহবুবুল আলম হাওলাদার (আমার আব্বার মামলার বাদী ও প্রথম স্বাক্ষী), মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার ফকির।

index

02.jpg

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়া ছাড়াও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় র‌্যালিতেও নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় তাকে। বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে সালামও গ্রহণ করেন সাঈদীপুত্র। শুধু তাই নয়, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উপহার দেয়া হয় বিজয়ের শুভেচ্ছা স্মারক! এর আগে যুদ্ধাপরাধী শর্ষিনার পীরকে দেয়া হয়েছিল স্বাধীনতা পুরুস্কার। আমরা লেখকরা তা বারবার প্রত্যাহারের জন্য গত কয়েক বছর ধরে উল্লেখ করে আসলেও সরকার কর্ণপাত করেনি। এছাড়া নাট্যকার নূরুল মোমেন ছিলেন পাকিস্তানের তাহজিব-তমদ্দুন ও এর রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার দৃঢ় সমর্থক, ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক প্রদান করে। বরিশালের রাজাকারদের কমিটি শান্তি কমিটির প্রধান আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছিল, তিনি আজও বেঁচে আছেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। ইতিহাস খুঁড়লে এরকম বহু উদাহরণ পাওয়া যাবে। তবে গত তিন বছর ধরে ক্রমাগত যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে মামলাগুলোর রায় আসায় এবং ৬ জন শীর্ষ রাজাকার নেতার সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর হওয়ায় ২০১৩ সাল থেকে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসগুলোর তাৎপর্য, অর্থময়তা ও অভিব্যক্তি অন্যরকম। সেখানে হঠাৎ করে এ বছরের (২০১৬) এর বিজয় দিবসে হঠাৎ করে রাজাকারপুত্রের বিজয় শুভেচ্ছা স্মারক গ্রহণ, বিজয় র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেয়া, কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করা, তার ফেসবুক পোস্ট–এসব আমাদের গত ৩ বছরের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এ নিয়ে যদিও পরে ক্ষমা চান মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সাঈদী পুত্রের সালাম গ্রহণকারী ইন্দুরকানি (জিয়ানগর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কারো সঙ্গে আঁতাত থাকায় মাসুদ সাঈদী এসব ঘটনা ঘটান, তিনি তার পিতার মামলাটির রিভিউ এর সময়ে বিশেষ সুবিধা পেতে এ ধরনের প্রতারণামূলক আচরণের আশ্রয় নিচ্ছিলেন।

বিজয় অর্জিত হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১। তা রক্ষা করা যায়নি। পাকিস্তানী প্রেতাত্মার ডাকে সাড়া দিয়ে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ করে ও তা বজায় রেখে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে ক্ষমতায় আসা সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বাংলাদেশ তার প্রগতিশীল চরিত্র বহু আগে হারিয়েছে। রাজাকারদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির পায়তারা আমরা দেখছি, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলের কেউ যখন অমন করে তখন সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। দৈনিক সকালের খবর পত্রিকার চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধির পাঠানো একটি খবর দেখতে পাচ্ছি, খবরটা এমন:

15541607_1385389711473479_8482627622974778592_n.jpg

চাপাইনবাবগঞ্জে সংসদ সদস্যের হাত ধরে আল বদর নেতা, যুদ্ধাপরাধী ও জেলা জামাতের শূরা সদস্য সোহরাব আলী রাজাকারের বিজয় দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়েছে। জানা যায় গত ১ লা অক্টোবর এ আলবদর কমান্ডার সদর আসনের এমপির কাছে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এ সময় জামাত বিএনপির ৮০০ নেতাকর্মী যোগ দেয় বলে জানা যায়। ৮০০ নেতাকর্মী যোগদানের বিষয়টা আসলে ভুঁয়া। এটা হল নেতা যখন কোথাও যোগ দেয় তখন শোডাউন করতে হয়, সে জন্য লোক নিয়ে গিয়ে যোগ দেয়। পরে নেতা অন্য কোথাও যোগ দিলেও তারাও সেখানে যোগ দেয়। মূলত সোহরাব আলীকে রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে এমপি আবদুল ওদুদ তাকে আওয়ামীলীগে যোগদান করিয়েছে, এবং ডিসেম্বরে তাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করার জন্য সংসদ সদস্য তাকে নিয়ে শহীদ মিনারে গেছে। এসব দেখে আমার মনে মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে রাজাকারদের সামাজিকভাবে বয়কট করা কি কখনো সম্ভব?
– না, সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বাধা ধর্ম। কেননা তাদের সামাজিকীকরণ শুরু হয় পাড়ার মসজিদ থেকে। মাথায় টুপি পড়ে মসজিদে গেলে কেউ ‘না’ করে না। কথাটা শুনতে খারাপ শুনায়, কিন্তু সত্য। এবং বাংলাদেশে এটা ঘটে চলেছে। যে কারণে তারা শহীদ মিনার তক পৌঁছে গেছে, শহীদদের বেদীতে ফুল দিচ্ছে, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের পুরুস্কার তুলে দিচ্ছে, তারা শহীদ বুদ্ধিজীবী জিসি দেবের বাড়ি দখল করে রাখছে, তাদের নামে রাস্তাঘাট স্কুল কলেজ কলকারখানা হচ্ছে–সব কিছুই হচ্ছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা কারী জামায়াত সলাম, যারা ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যায় পাকিস্তানীদের দোসর ছিল, নারীদের তুলে দিয়েছিল হানাদার সেনাদের হাতে, হত্যা করেছিল তালিকা করে বুদ্ধিজীবীদের তাদের ছাত্র সংগঠন হল শিবির, তারা বিজয়ের ৪৪ বছর পর হঠাৎ করে এ বছর শিবিরের কর্মীরা বুকে দেশের পতাকার রঙের লাল-সবুজ ব্যাজ পরে ব্যানারে ‘স্বাধীনতা এনেছি স্বাধীনতা রাখবো’ লিখে শ্লোগান দিয়ে বিজয় র‌্যালি করেছে। তারা রাজধানীতে ৪টি ভাগে বিভক্ত হয়ে বিজয় র‌্যালি করেছে। তাদের শৃঙ্খলিত র‌্যালি দেখে মনে হয়েছে তারা এর প্রস্তুতি নিয়েছে, পরিকল্পনা করেছে। কারো মাথায় লাল সবুজ ফেটি, কারো হাতে বাংলাদেশের পতাকা। অথচ এ ছাত্রশিবিরের নাম ছিল ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘ, সংগঠনটির তদানীন্তন কেন্দ্রীয় নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আল-বদর বাহিনী গঠন করে দেশকে মেধাশূন্য করার হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। তারা দেশের সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং নৃশংসভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতার পর হাতের রক্তের দাগ মুছে ফেলতে দলটির নাম পাল্টে ফেলে এর চতুর নেতারা। সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল জামায়াত শিবিরের ছাত্র সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ইসলামী ছাত্র শিবির। একইসঙ্গে অন্যান্য জামায়াত নেতার মতো ছাত্রসংঘের নেতারাও এসব হত্যাকাণ্ডের দায় বারবার অস্বীকার করতে থাকে। কিন্তু তৎকালীন ছাত্র সংঘ প্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি হয়ে গেছে। উপরোক্ত দুটি ঘটনার সঙ্গে ছাত্র শিবিরের এ ঘটনার যোগসূত্র করেছে। কেননা তারা যা করেছে তা করেছে সংগঠনের নির্দেশে। এরা যতদিন একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের মাঝে থাকে ততদিন তারা সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছাড়া এক পাও ফেলে না। আবার তাদের সকল সিদ্ধান্ত মূলত আসে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামের সদরদপ্তর ইসলামাবাদ থেকে। আমার কাছে মনে হয় তারা কোন নতুন ষড়যন্ত্র করেছে।

এবার আমরা পাকিস্তানকে বেশ নড়েচড়ে উঠতে দেখলাম বাংলাদেশের বিজয় দিবসে। পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে থেকে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর   একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভিডিওটির নাম রাখা হয়েছে “The Forgotten Chapter – Story of East Pakistan”, ৭ মিনিটের এ ভিডিওতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশের বিপক্ষে কথা বলেছেন, যেমন Dr. Junaid Ahmad তার ‘Creation of Bangladesh Myths Exploded’ নামে তার লেখা বইটি নিয়ে তিনি ক্যামেরার সামনে এসেছেন এবং বলেছেন, “..I have seen the entire incident from my eyes and I knew death figure of 3 million Bengalis was incorrect as 90% of them were Beharies.” ২৬ মার্চ রাতে  অপারেশন সার্চলাইট ছিল ১৯৭১ সালে  ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত পরিকল্পিত গণহত্যা, যার মধ্যমে তারা ১৯৭১ এর মার্চ ও এর পূর্ববর্তী সময়ে সংঘটিত বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দমন করতে চেয়েছিল।  Dr. Junaid Ahmad মিথ্যাচিরতা করেছেন বলেছেন এ ভিডিওতে, এ অপারেশনে মাত্র সাতজন মারা গেছে। তিনি বলেন:“The total number of people were killed was seven and they were the miscreants of Awami League, who opened fire on army.”  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে বাংলাদেশে হানাদার বাহিনীর অফিসার হিসেবে উপস্থিত থাকা Brigadier (R) Muhmmad Taj ভিডিওটিতে বলেছেন (তিনি ছিলেরন ১৮ পাঞ্জাব ও ৩২ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট দু’টির কমান্ডিং অফিসার):‘‘Beharies and non-Bengalis were being killed at every town in East Pakistan.” Muhammad Shakir নামে এক ব্যক্তিকে পরিয়চয় করিয়ে দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের স্বীকার হিসেবে। Fatema Hassan নামের Honorary Secretary Anjuman  Taraqqi-e-Udrdu Pakistan বলছেন যে, “Indian airplanes used to come and I saw Russian (Soviet) pilots with on my eyes.”  এ কথাটি শুনে হাসতে হাসতে মরে যাবার উপক্রম হল, ভদ্রমহিলার চোখের পাওয়ারের প্রশংসা করতে হয়, তিনি মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভারতীয় বিমানে সোভিয়েত সেনাদের দেখতে পেয়েছিলেন। স্ক্রিপ্টটি যে মিথ্যার ওপরে সাজানো, ভুলে এ জায়গাটা তারা বাদ দিতে ভুলে গেছে বলে মনে হল। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোল্লা কাদের ও মতিউর রহমান নিজামীকে নিয়ে Khizrul Islam নামের এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়,‘‘Mullah Kadir was sincere man and the only crime of Mr. Nizami was that why they visited Pakistan after the creation of Bangladesh?” Khurshid Alam  নামের বাংলাদেশ থেকে পলাতক রাজাকার স্পষ্ট বাংলায় ভিডিওতে কথা বলে, তাকে মুক্তিবাহিনীর ভুক্তভোগী হিসেব উপস্থাপন করা হয়েছে:‘‘আমি শেখ হাসিনাকে বলতে চাই তুমি যা কিছু বাংলোদেশের মোসলমানদের সঙ্গে করতাছো এটা বহুতই অন্যায়। এবং তুমি বাংলাদেশের জন্য কিছুই করতাছো না, তুমি যা কিছু করতাছো বর্তমানে ইন্ডিয়ারি কথার উপরে করতাছো এবং তুমি ইন্ডিয়ার গোলাম, তুমি মোসলমান জাতিকে ধ্বংস করতাছো। এখানে দেখতে পারেন প্রপাগান্ডামূলক ডকুমেন্টারিটি: https://www.facebook.com/pakistanidefence/videos/10154462779997663/  

অন্যদিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মঈনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয় ও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আলোচনা সভার শেষ দিকে যখন অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্য চলছিলো, তখন হঠাৎ করেই স্কুলের পেছন দিক থেকে এসে রামদা ও লাঠি নিয়ে মঞ্চে হামলা চালায় স্থানীয় হাফেজ নুরুল ইসলাম রাফি ও আরও ৩/৪ জন। এসময় রাফি রামদা দিয়ে প্রধান শিক্ষককে কোপ দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু চেয়ার সামনে এনে তিনি কোপ প্রতিহত করেন ও নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। এরপর হামলাকারীরা অনুষ্ঠানের চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে ও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে মাটিতে ফেলে দিলে চলে যায়!

এসব নেতিবাচক খবরের মাঝেও, নাটোর থেকে দারুণ একটি খবর পেলাম। সেখানে রাজাকারদের নামে থাকা রাস্তার নামফলক ভেঙে ফেলা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা নামফলক দুটি ভেঙে দেন এবং এ সময় সড়ক দুটির নতুন নামকরণ করা হয়। সড়ক দুটি হলো শহরের ছায়াবানী সিনেমা হল থেকে সদর হাসপাতাল সড়ক এবং বড় হরিশপুর এলাকার চেয়ারম্যান সড়ক।

a70ec270ad3312c1e867785ec0d21187-585396485555d.jpg

এবং  যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামফলক ভেঙে ফেলছে তার দিকে ঈর্ষার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। হাসপাতাল সড়কটির নাম ছিল আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী ওরফে মধুমিয়া সড়ক যার নতুন নামকরণ করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার আলী সড়ক এবং অপরটির নাম ছিল কছের উদ্দিন সড়ক যার নতুন নাম বীর প্রতীক সোলেমান আলী সড়ক। আব্দুস সাত্তার খান চৌধুরী পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগের একজন নেতা ছিলেন। তিনি পাকিস্তান আমলে পরপর দুইবার এবং স্বাধীন বাংলাদেশেও একবার এমপি নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নাটোর মহকুমা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। কছের উদ্দিনও মুসলীম লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশেও বেশ কয়েক দফায় বড় হরিশপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বড়হরিশপুর ইউনিয়ন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

১৭ ডিসেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দারুণ একটি ঘোষণা দিয়েছে, তা হল তারা মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করেছে।  রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দুই সিটি কর্পোরেশনের মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। সাঈদ খোকন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের পাশাপাশি তাদের জন্য দুই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কল্যাণ তহবিলও গঠন করা হবে। বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের এক হাজার বর্গফুট আয়তনের বাসায় হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ রয়েছে। এটি বাড়িয়ে ১ হাজার ৫শ’ বর্গফুটের বাসায় হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের দাবি জানিয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। কখনো কখনো নগররাষ্ট্রের নাগরিকরা শিক্ষিত করে তোলে আপামর জনগণকে, তাদের পরিকল্পিত জীবনব্যবস্থা হয়ে ওঠে জনপদে বসবাসকারী জনগণের অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। এর পেছনে নগরনেতার নগরচিন্তা চেতনার আধুনিকতা ও উদার পৃষ্ঠপোষকতা থাকতে হয়। ধন্যবাদ ঢাকার মেয়রদ্বয়কে।

এবারের বিজয় দিবসেও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে ‘বীরনিবাস’ দেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকবৃত লাল-সবুজের রঙে রাঙানো বাড়িগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বীরনিবাস’। ৫০০ বর্গফুটের প্রতিটি বাড়িতে দুটি শোয়ার কক্ষ, একটি বসার কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি বারান্দা রয়েছে। এছাড়া বাড়ির বাইরের দিকে রান্নাঘর-সংলগ্ন একটি পাকা উঠোন, নলকূপ, শৌচাগার ও গৃহপালিত পশুপাখির বাসস্থান রয়েছে। যেসব ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা বাড়িগুলো পেয়েছেন তাদের নিজ নিজ এলাকায় পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়। এবার  টাঙ্গাইল জেলার সখীপুরের নয়জন ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাও নয়টি বীরনিবাস পেয়েছেন। এ উপজেলার একমাত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা ফাতেমা বেগম; আবাদি জমি দূরের কথা, মাথা গোঁজার ভিটাও ছিল না তাঁর।

15747346_1395229950489455_2856343788675361307_n.jpg

প্রয়াত সাংসদ শওকত মোমেন শাহজাহান তাঁকে কিছু খাসজমির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, তিনিও এবার পেলেন ‘বীরনিবাস’। এত দিন খাসজমিতে টিনের ঘর তুলে বাস করে আসছিলেন, তবে গত সপ্তাহে সরকারি অর্থায়নে তৈরি ওই পাকা বাড়িতে ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে উঠেছেন তিনি। সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেঁদে ফাতেমা বলেন, ‘আমার থাকার জায়গাও ছিল না। এমপি সাব আমাকে কিছু জমি দিয়েছিলেন; এখন প্রধানমন্ত্রী পাকা বাড়ি দিলেন। এমন বাড়ি পাব, আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি।’ ফাতেমাসহ সখীপুরের অন্যান্য ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা পাকা বাড়ি পেয়ে খুশি। ভূমিহীন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাড়িগুলো নির্মাণ করে দিয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুটি ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাতটি বীরনিবাস তৈরির কাজ শুরু হয়; টাঙ্গাইলের এ ৯ টি বীরনিবাসের জন্য ৭২ লাখ ২১ হাজার ৫৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

১৯ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদের মুখে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধী কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নানের জানাজা শুধুমাত্র নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮৯ বছর বয়সে গাজী মান্নান পলাতক অবস্থায় মারা যায় নারায়ণগঞ্জে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। তার মরদেহ নারায়ণগঞ্জ থেকে করিমগঞ্জ পৌঁছার পর প্রথমে করিমগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও পরে করিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে পারিবারিকভাবে জানাজার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোমিন আলী স্থান দুটিতে জানাজা অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন জানালে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষের আবেগ-অনুভূতির কথা চিন্তা করে স্থান দুটিতে জানাজা করতে ইউএনও আসমা আরা স্থান দুটিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে করিমগঞ্জ থানা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।  পরে ঘোনাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ির উঠানে আব্দুল মান্নানের জানাজা হয় এবং বাড়ির আঙ্গিনাতেই দাফন সম্পন্ন হয়, সেখানে জানাজায় ও দাফনে শুধুমাত্র পরিবারের কয়েকজন সদস্য ও নিকটাত্মীয়রা অংশ নেন। যিনি িনিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেছেন তার বক্তব্য হল,‘‘শিক্ষাঙ্গনের মতো পবিত্র স্থানে কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার গাজী মান্নানের জানাজা হতে পারে না।’’  মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চার চিহ্নিত রাজাকারের ফাঁসি ও একজনকে আমৃত্যু কারাদন্ডের রায় দেয়। তার মাঝে রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নানও ছিল ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী।

এখন বিজয় দিবস নিয়ে অতি উল্লাস করা মানে বড় বেশী স্বার্থপরতা, মিথ্যার বেসাতি ছড়ানো, সাধারণ মানুষকে গৌরবের একটা স্মৃতির মাঝে নেহাত ব্যস্ত রাখা। পাকিস্তানপন্থী পরাজিত গোষ্ঠী সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করছে বাঙালী প্রগতিশীল চেতনাকে ধ্বংস করে দিতে, এজন্য তারা ব্যবহার করছে ধর্মকে। সব ধর্মভিত্তিক দলগুলো এক হয়েছে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে। কিছুদিন আগে তাদের দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তককে সাম্প্রদায়িক করে তোলা হয়েছে, বাদ দেয়া হয়েছে হিন্দু ধর্মালম্বী ও মুক্তমনা লেখকদের গল্প ও কবিতা মাধ্যমিক শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক থেকে। তারা এখন ভাস্করযগুলোর বিপক্ষে নেমেছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে গ্রীক পুরাণের আইনের দেবী থেমিসের প্রতীকী ভাস্করয অপসারণের জন্য আন্দোলন ঘোষণা দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ দাবি করছে সেখানে কুরানের প্রতিকৃতি তৈরি করতে হবে, সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে থাকবে কোরান আর ভেতরে থাকবে কোরানের আইন।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চলছে। বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী  বাহিনীর খুন-গুম-ক্রসফায়ার-বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলছে। এমনকি টাকার বিনিময়ে তারা এসব কাজও করছে। যেমনটা আমরা দেখতে পেয়েছি নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায়। র‌্যাব-১১ এর তিন সেনা কর্মকর্তা আরো ২০টি খুন ও গুমের সঙ্গে জড়িত এমন তথ্য উঠে এসেছে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে। বাকস্বাধীনতা নেই, কারাবন্দী আছে ছাত্রনেতা, অধিকার আদায়ের নেতারা, যেমন ছাত্রনেতা   দিলীপ রায়, আদিবাসী ছাত্রনেতা বিপুল চাকমা। মামলা ঝুলছে সাংবাদিক প্রবীর সিকদার, প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিকের নামে। ঘর পুড়ছে সংখ্যালঘুর, আদিবাসীর, ভাঙা হচ্ছে মন্দির। চলছে ব্লগার-প্রকাশক-বুদ্ধিজীবীদের নিধন, নাস্তিকদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে মৌলবাদীদের দাবীর মুখে লালনের গানের আসর। নারীরা হচ্ছে ধর্ষণের শিকার। আঙুল ফুলে কলাগাছ চেতনার কারবারীরা। মুক্তিযোদ্ধারা হচ্ছে অসম্মানের, হত্যার শিকার। শিক্ষা ও নৈতিকতা ক্রম নিম্মমুখী; দরিদ্ররা আরো দরিদ্র।

আবার যেদিন বাংলাদেশ তার প্রগতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করতে পারবো, তার আগে নয়। এখনকার উল্লসিত বিজয় উদযাপন বালুতে উটপাখির মাথা গোঁজার মতো দেখায়!

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s