বাংলাদেশকে পাকিস্তানী কাউকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া বন্ধ করতে হবে

pakistan_sorry_for_1971 massacare
আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি পাকিস্তানের সঙ্গে সব রকম কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশকে বন্ধ করতে হবে, দূতাবাস বন্ধ করতে হবে, যতদিন না তারা প্রকাশ্যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়। তাদের প্রতি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের এখন যথাযথ সময়। বাংলাদেশের যুুদ্ধে যে ক্ষতি হয়েছিল তার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ তাদেরকে দিতে হবে, আমরা সে টাকা দিয়ে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের কবর বাঁধিয়ে ঘৃণাস্তম্ভ বানাব।
পাকিস্তানী মিডিয়া ও আইনজীবীরা একবার বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য ‘স্যরি’ বলে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে হামিদ মীরও মুখ দেখিয়েছিল। সে ছবিটা এখানে বাংলাদেশ নিয়ে এর মাঝে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে দেখেছিলাম; সে ছবিটা কম্পিউটারের ট্রাশবিনে ছুঁড়ে ফেললাম আজ। হুমায়ূন আজাদ বলেছিলেন যদি কোন পাকিস্তানী গোলাপ ফুল নিয়ে আসে তবু তিনি তাকে বিশ্বাস করবেন না, কথাটা নতুন করে অর্থবহ হয়ে গেল।
 
যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে তাতে পাকিস্তানী সাংবাদিক হামিদ মীরের গোস্বা হয়নি, তার গোস্বা হয়েছে জঙ্গীনেতা মুফতি হান্নানের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার পরে। কেননা ১০০ এর বেশি মানুষ হত্যাকারী মুফতি হান্নান ছিল স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে পাকিস্তানী জঙ্গী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-য়ের সবচে’ সফল এজেন্ট।
 
হামিদ মীর’রা মনে করেছিল শুধুমাত্র ‘স্যরি’ বলে পার পাওয়া যাবে। না; স্যরি বলে পার পাওয়া যাবে না। মানব সভ্যতার ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম গণহত্যা শুধুমাত্র ‘স্যরি’ বলে পার পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশে তাদের দোসরদের বিচার অব্যাহত থাকবে। ১৯২ জন পাকিস্তানী সেনাসদস্য যারা গুরুতর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ছিল তাদের মাঝে কেউ যদি এখনও বেঁচে থাকে তাদের পাকিস্তানকে বিচারের জন্য বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। আর কেউ বেঁচে না থাকলে তাদের গায়েবী বিচার মানে প্রতীকী বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে একদিন। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি ব্যর্থ ও ফকির রাষ্ট্র। পাকিস্তানকে বাংলাদেশ থেকে যে সম্পদ তারা চুরি করেছিল সে সম্পদ ও বাংলাদেশের যুুদ্ধে যে ক্ষতি হয়েছিল তার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ তারা দিতে পারবে কিনা যদিও সন্দেহ আছে। কিন্তু সে অর্থ দিতে তাদেরকে চাপের মুখে বাংলাদেশকে রাখতে হবে।
 
আইএসআই এর মদদপুষ্ট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়োজিত পাকিস্তানী গোষ্ঠীদের তাদের পাওনা একে একে বাংলাদেশ চুকিয়ে দেবে আগামী দিনেও। শুধু দুঃখ যে তার পিতা ওয়ারসি মীর যাকে ২০১৩ সালে আরো ১৩ পাকিস্তানীর সঙ্গে মরণোত্তর স্বাধীনতা সম্মাননা দিয়েছিল বাংলাদেশ, তার পিতা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাক সেনাদের নিষ্ঠুর ও ঘৃণ্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক কলাম লিখেছিল তখনকার ‘জং’ পত্রিকায়, সে অবদানকে এক অর্থে অস্বীকার করল সে। মানে নিজ পিতার মুখে চুনকালি দিল। তার বক্তব্য হল শেখ হাসিনার সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না, সে কারণে তার পিতাকে দেয়া সম্মাননা সে ফেরত দিতে চায়।
 
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একের পর বাস্তবায়ন হওয়ায় সে ১৩ পাকিস্তানীর পক্ষে যারা সম্মাননা গ্রহণ করেছিল তাদের প্রতি আইএসই অব্যাহত চাপ দিয়ে যাচ্ছে সম্মাননা ফেরত দেয়ার জন্য। হামিদ মীর ছাড়াও আরো কেউ বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না এ অভিযোগ তুলে যদি সম্মাননা ফেরত দিতে চায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত আছে, সেজন্য তাদের এ দেশের মাটিতে তাদের নোংরা পা রাখার দরকার নেই, পাকিস্তানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ফেরত পাঠিয়ে দিলেই চলবে।
 
বাংলাদেশে প্রতিটি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় বাস্তবায়নের পর পাকিস্তান অগ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তার বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালিয়েছে যে বাংলাদেশে ইসলামী বিরোধী দলীয় নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ধর্মের ট্রাম্পকার্ড তারা এখনও খেলে যাচ্ছে। আমরা আমাদের দেশের-বাংলাদেশের বিশ্বাসঘাতক-মীরজাফর নাগরিকদের বিচার করছি, তাতে পাকিস্তানের কি? তাদের গায়ে লাগে কারণ জামাতে ইসলামের এসব নেতারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আইএসআই এর হয়ে কাজ করতো। সে কারণে এখানে এক একটি বিচারের রায় বাস্তবায়ন হয় আর কান্না ওঠে ইসলামাবাদে, লাহোরে।
গত বছর বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে তাদের সোশাল মাধ্যমের পাতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী নতুন প্রপাগান্ডা ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হয়েছিল। ইমরান খানের মতো পরিচিত ক্রিকেটার এখন পতিত রাজনীতিকের খাতায় নাম লিখিয়েছে, তার সঙ্গে ‍এবার যুক্ত হল আরেকটি নাম ‘হামিদ মীর’। এসব পতিত বুদ্ধিজীবীরা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে না, তারা নতি স্বীকার করে সুবিধা পেলে। শীঘ্র হামিদ মীর এমনকি পাকিস্তানের রাজনীতিতেও নাম লেখাতে পারে বলে ধারণা করি। সে পাকিস্তানে বাংলাদেশ বিরোধী ভাবাবেগ কুড়িয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা কামানোর ধান্দায় আছে। যাক গে, হামিদ মীর গুরুত্বপূর্ণ কেউ না আমাদের কাছে, পাকিস্তানের বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া হল গুরুত্বপূর্ণ।
 
সেজন্য আবারও বলি,পাকিস্তানের সঙ্গে সব রকম কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশ সরকারকে বন্ধ করতে হবে, পাকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশে পাকিস্তান দূতাবাস বন্ধ করতে হবে, যতদিন না তারা প্রকাশ্যে ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়। হামিদ মীরের এ ঘটনাটি নতুন করে আমাদের সে দাবী জীবন্ত করে তুলুক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সমর্থন করা বা বাংলাদেশে পাকীদের গণহত্যার বিরোধিতাকারী পাকিস্তানী কোন নাগরিককে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করা উচিত, যদি কেউ বেঁচে থাকে তাহলে তার হাতে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু হামিদ মীরের মতো তার পিতার সম্মান নিয়ে টানাটানি যেন আর কেউ করতে না পারে, সে সুযোগ তাদের দেয়া যাবে না।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s