‘শেখ মুজিবকে কটুক্তি করা হয়েছে’ কথাটি বাংলাদেশে নির্যাতনের হাতিয়ার

শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদের ভালবাসতে ও সম্মান জানাতে শিশু দিবস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়ে থাকে বিশ্বব্যাপী।  শিশু দিবসটি প্রথমবার তুরস্কে পালিত হয়েছিল ১৯২০ সালে ২৩ এপ্রিল তারিখে। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মদিন, সে দিনটিকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে শিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তারপর থেকে নিয়মিত শিশু দিবস পালিত হয়ে আসছে। মাঝে বিএনপি-জামাত সরকারের সময় তা কিছুটা স্থগিত থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দুটি শাসনামলে এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। গরীবদের খাবার ও পোষাক বিতরণ, রক্তদান কর্মসূচি ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজও হয়। তবে দেশব্যাপী শিশুদের নিয়ে নানারকম অনুষ্ঠান স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে পালিত হয়। তার মাঝে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্য। আর শিশুদের চিত্রাঙ্কনের বিষয় নির্ধারণ করে দেয়া হয় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ প্রভৃতি।

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এমন এক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় গত ১৭ মার্চ শিশুদের দু’টি ছবি প্রথম পুরুস্কার, দ্বিতীয় পুরুস্কার অর্জন করে। প্রথম পুরুস্কারটি অর্জন করে গেরিলা যুদ্ধের একটি চিত্র, অন্যটি ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি।

Mujib 1

২৬মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় জেলা প্রশাসন তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার সূচিকার্ডে সে দু’টি ছবি দিয়ে আমন্ত্রণপত্র তৈরি করে। উল্লেখ্য যে শিশুদের আাঁকা ছবি দু’টি দেখলে বোঝা যায় কাঁচা হাতে আঁকা। আর এ আমন্ত্রণপত্রটি নিয়ে গত ৭ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিক সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করে বসেন বরিশালের জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। তিনি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকও। সে মামলায় এ আমলা গ্রেফতার হন ও দেশব্যাপী সমালোচনার মুখে তাকে আপাতত মুক্তিও দেয়া হয়। এ মামলার নেপথ্যে নানা রকম স্বার্থদ্বন্দ্বের কথা উঠে আসছে, অনেকে শিল্পমূল্য সহ অন্যান্য বিচার বিশ্লেষণ করছে। কিন্তু তা আমার আলোচনার বিষয় নয়।

যে দু’টি ইসলামী উগ্রবাদী ধারা বাংলাদেশে আছে তাদের একটি হল জঙ্গী, যারা এখনি শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করতে চায়। আর অন্য দলটি হল তারা ক্ষমতাসীন সরকারগুলোকে নানাভাবে বেকায়দায় ফেলে আস্তে আস্তে রাজনৈতিক সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। বাংলাদেশে এ দ্বিতীয় শ্রেণীর ইসলামী উগ্রবাদীরা বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোর কাছে দাবী জানিয়ে আসছিল যে ধর্মের খারাপ দিকগুলোর সমালোচনা রুখতে ব্লাসফেমি আইন করতে হবে। অবশেষে বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন নামে তা পাশ হয়। এবং ৫৭ ধারাটিকে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতাকে রুখতে যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়। ৫৭ ধারায় কাউকে মানহানি করা হলে জামিন না দিয়ে বিচারক দোষীকে জেলে ভরে রাখতে পারেন বলে  ভিন্নমত দমনে এ ধারাটির তুমুল ব্যবহার হচ্ছে এখন বাংলাদেশে। বাংলাদেশে ২০১৬ সালের ফেব্রূয়ারি থেকে ‘ইসলাম বিতর্ক’ গ্রন্থটির লেখক এখনও কারাবন্দী আছেন। এ ছাড়া এ ধারায় বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে শত শত মানুষের নামে মামলা দেয়া হয়েছে, নাজেহাল করা হয়েছে, সরকারের সমালোচনা রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে।

‘কটুক্তি করা হয়েছে’ বাংলাদেশে এখন বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করতে বড় হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। গত দশ বছরে বাংলাদেশে কয়েকশ হিন্দু ধর্মালম্বীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক কর্মীরা তো আছেন। হিন্দু ধর্মালম্বীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা হয়েছে’ বলে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করে স্বার্থান্বেষী মহল। এর নেপথ্যে আছে চাকরীচ্যুত করা, জমি দখল প্রভৃতি। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিজ্ঞান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমনটি বারবার ঘটছে, বিশেষ করে যারা বিবর্তনবাদ পড়াচ্ছেন তাদের অনেককে জেলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

ধর্মকে কটুক্তি করা ছাড়াও আরেকটি অস্ত্র আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে আছে, তা হল স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে কটুক্তি করা হয়েছে। আমি এসব নিয়ে বেশি উদাহরণ দেব না—

– বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি : ৫৭ ধারায় মামলা

চট্টগ্রাম প্রতিদিন, ০৮/০৭/২০১৭

– বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি, শাবি শিক্ষকের কক্ষ ভাঙচুর

সিলেট ভিউ টুয়েন্টি ফোর ডট কম, ১৭/০৭/২০১৭

– বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি: মানিকগঞ্জে কলেজ অধ্যক্ষ বাসুদেব শিকদার বরখাস্ত

লন্ডন টাইমস নিউজ ডট কম, ০২/০৭/২০১৭

– বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তি : জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকায় মামলা

চাঁদপুর রিপোর্ট, ১৭/০৯/২০১৬

অনুসন্ধানী পাঠক ‘বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তি করায় গ্রেফতার’ কথাটি লিখে গুগল সার্চ করুন। অসংখ্য লিঙ্ক চলে আসবে। তবে প্রসঙ্গত বলে রাখি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কোন ধরনের কটুক্তি করলে বা তাতে মদদ দিলে  তা সাইবার অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে ।

দলতোষণ এমন স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে যে শেখ মুজিবকে বাংলাদেশে নবী হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা হচ্ছে। স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলাম তোষণ শেখ মুজিব করেছিলেন, তাদের নানারকম সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও একজন মানবিক মানুষ হিসেবে ইসলামের যে কোন নবীর থেকে শেখ মুজিবের নীতি-নৈতিকতা ভাল ছিল। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে তরান্বিত করেছিলেন। আর ধর্মীয় নবীরা মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করেছে, ধর্মের নামে মানুষকে হত্যা করেছে, যুদ্ধ করেছে, ধর্মগ্রন্থে এমন কিছু ঘৃণাবাক্য ছড়িয়ে রেখেছে যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে মুখোমুখি করছে সংঘাতে-যুদ্ধে-মৃত্যুতে।

শেখ মুজিবকে নবী দাবী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফেসবুক ভ্যারিফাইড থেকে করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রমাণ এখানে রাখছি যেখানে তাকে বাংলার নবী বলা হয়েছে–

mujib 2

আবার গত বছর বাংলাদেশ পুলিশপ্রধান বলেছিলেন এ কথা—

ShamsulKabirMilad007-1471679256-a88c086_xlarge.jpg

আবার অতি আওয়ামী লীগার কেউ বলেছেন এমন কথাও—

ShamsulKabirMilad007-1471680573-7a816ed_xlarge.jpg

জনৈক ‘লেখক, গবেষক ও সংস্কারক’ হায়দার আলী চৌধুরী তার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘পবিত্র কোরান হাদিসের আলোকে খলিফাতুল মোসলেমীন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’ নামক গ্রন্থের ‘ভূমিকা’য় ১০ সেপ্টেম্বর ২০১০ সালে লিখেছেন,‘‘……সিয়াম সাধনার মাস রমজানে অজুর সাথে এ বইটি রচিত হয়েছে। যে কোন পাঠক নিয়মিত এই বইটির কিছু কিছু অংশ পাঠ করলে তার যে কোন মুসকিল আসান হবে, ইনশায়াল্লাহ। এটি পরীক্ষিত।
মনে রাখতে হবে….মনে রাখতে হবে, বইটি একটি মহাপুরুষের জীবনী। নিয়মিত পাঠকারীর বিপদ-আপদ, বালা-মসিবত, আসমানী বালা-জমিনী বালা, যাদু-বান-টোনা, নজর-আছর, শত্রূর শত্রূতামি, দুশমনের দুশমনী, হিংসুকের হিংসা, প্রতারকের প্রতারণা, রাহুর-দশা-ফাঁড়া, অভাব-অনটন, দুঃখ-দুর্দশা, বাত-ব্যাধি, ব্যথা-বেদনা, রোগ-শোক দূর হবে, ইনশায়াল্লাহ। পরিবারের সুখ শান্তি ও আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে। এটি পরীক্ষিত।’’

গ্রন্থটির প্রচ্ছদ ও ভূমিকা—

ShamsulKabirMilad007-1471678340-6e7e19a_xlarge.jpg20139632_1608825622463219_1831549081742454307_n.jpg

পৃথিবীর রাষ্ট্রনায়কদের নিয়ে অসংখ্য কার্টুন, লেখা প্রকাশিত হয়। সেসবের মাঝে সিংহভাগ কার্টুন করা, লেখা হয় সমালোচনার জন্য। সভ্য দেশে এসব নিয়ে মাথাব্যথা হয় না কারো। বরঞ্চ লোকে তা উপভোগ করে, নতুন নতুন অবলোকনে রাষ্ট্রনায়কদের বিবেচনা করে, ইতিহাসের মূল্যায়নে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা এগিয়ে চলেন বহমান হন। কিন্তু বাংলাদেশে ‘শেখ মুজিবকে কটুক্তি করা হয়েছে’ কথাটি এখন মানুষ নির্যাতন, বাক স্বাধীনতা রুদ্ধ করা ও ভিন্ন মত দমনের হাতিয়ার। এ নির্যাতন থেকে মানুষের মুক্তি মিলবে কবে?

Advertisements

ধর্ষিতা নারীকে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার মত জঘন্য অপরাধ দেখেও চুপ থাকবো?

19989509_1597052260307222_4985147240407767321_n

 

প্রথমে বলে নিচ্ছি আমি পুরুষ বলে কুণ্ঠিত নই। ধর্ষণের ঘটনা ঘটার পর পর আমার অনেক পুরুষ বন্ধুকে বলতে দেখি তারা পুরুষ বলে নাকি লজ্জ্বিত। যাহোক, পত্রিকার পাতায় খবরটি দেখলাম, চমকে উঠলাম। ধর্ষিতাকে পেটানো হচ্ছে, তাকে ঘিরে চলছে উল্লাস। এ অবশ্য নতুন কোন চিত্র নয় বাংলাদেশে। তবু শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বলে চমকে উঠি, ভয় পাই। ভয় পাই এসব মানুষকে নয়, ভয় পাই এ ভোঁতা সময়কে। যখন মানুষের অনুভূতিতে গুরুতর অপরাধকে লঘু বলে মনে হয় আর অথচ বিবেকবোধ তা ক্রিয়া করে না।

দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত গ্রাম্যবিচারের ছবিটিতে আমি চুপচাপ মুখগুলোকে দেখি। তাদের বয়স বোঝার চেষ্টা করি। সে দলে কিশোর থেকে শুরু করে মাথায় টুপি পরা মুসুল্লি ব্যক্তিটিও আছেন। এবং তাদের চোখে কী যে আনন্দের অভিব্যক্তি ফুটে উঠেছে তার বর্ণনা করা হবে পৈশাচিক। কিন্তু সত্যি তাদের মুখে আনন্দ, অভিব্যক্তিতে রিল্যাক্স ভাব, যেন গ্রাম্য যাত্রাপালার কোন নাটক চলছে। কিন্তু শনিবারের গ্রাম্যবিচারের ঘটনাটি দিনের আলোর মতো সত্য।

ঘটনাটি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের। গত শুক্রবার রাতে সেখানকার মীরনগর গ্রামে ধর্ষণের স্বীকার হন এক নারী। সে ধর্ষক তারই প্রতিবেশি। তারমানে সে এতদিন সুযোগ খুঁজছিল। স্থানীয় লোকজন ঘটনা টের পেলে ধর্ষক ঐ নারীকে পাটক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ধর্ষিতা নারীকে স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালউদ্দিনের জিম্মায় রাখা হয় সে রাতে। পরের দিন গ্রাম্য সালিশ বসে। হাজির করা হয় ধর্ষক সিরাজ মিয়াকেও। গ্রাম্য বিচারে ধর্ষক ও ধর্ষিতাকে দেয়া হয় শারীরিক শাস্তি বা দোররা। এবং উভয়কে করা হয় অর্থদণ্ড জরিমানা। জরিমানার ৩৫ হাজার টাকা স্থানীয় ক্লাবঘরের খরচ নির্বাহে ব্যয় হবে। ধর্ষণের স্বীকার হওয়া সত্ত্বেও নারীটিকে উল্টো নিপীড়নের স্বীকার হতে হল নিষ্ঠুরভাবে। আর দৈনিক পত্রিকার পাতায় ছাপা হয়ে ছড়িয়ে গেছে সে নিপীড়নের ছবিও। হয়তো সেখানে উপস্থিত থাকা অনেকে মোবাইলেও ধারণ করে ফেলেছে, তার অনুমতি বা আপত্তির কথা জানতে চাওয়া তো ছিল তাদের কাছে বাতুলতা।

মোটকথা এ ধর্ষিতা নারীটিকে ঘিরে এ নিপীড়নের ছবিটিই হলো আমাদের সমাজের চালচিত্র, সমাজের মুখ। ধর্ষিতা নারীকে পেটানোর ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যক্তিরা একটি সুচতুর কৌশল অবলম্বন করেছেন। তারা নারীকে পেটানোর জন্য বাধ্য করেছেন তার পরিবারের সদস্যদের। যাতে সহজে অন্য মানুষকে বোঝানো যায় এ নারীকে শাসন করছে তারই পরিবার। কথা হল একজন মানুষকে শারীরিকভাবে আক্রমণের অধিকার কারো নেই। তা স্বামী, পিতা বা যেই হোক না কেন।

ছবিটিতে দেখি ধর্ষিতা নারীর পেছনে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। একজন শাদা পাঞ্জাবী পরা বয়স্ক ব্যক্তি পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছেন, পাশে মাথায় সানগ্লাস পরা এক ব্যক্তি দাঁত বের করে হাসছেন, মূলত ছবিটিতে থাকা সব ব্যক্তিই হাসছেন। নিশ্চয় তখন কোন মজার কথা বলা হয়েছিল বা কটুক্তি, আরেকজন ব্যক্তি চেয়ার থেকে উঠছেন—তাকে অন্য এক হাত বাড়িয়ে কিছু বলছেন, আরেকজন লাল গেঞ্জি পরিহিত হোদকা পেটে হাসছেন, আরেকজন ঘরের আড়ার দড়ি ধরে ঝুলে ঝুলে ঘটনা দেখছেন। এ রকম একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এতগুলো লোক কি করে এত ঠাণ্ডা মাথায় নিপীড়নের ঘটনাটি দেখতে পারেন ও হাস্যরস করতে পারেন ভাবি? আমাদের সমাজব্যবস্থা কি এতটাই পঁচে গেছে? শিক্ষিতের হার বেড়েছে, জনসচেতনতা বাড়েনি? মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়েনি?

মূলত বাংলাদেশে গ্রাম্য ছোটখাট বিচারের জন্য ফতোয়া/সালিশ প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। তবে ফতোয়ার মাধ্যমে কাউকে শারীরিক শাস্তি দেওয়া যাবে না বলে আদালত রায় প্রদান করেছিল। কিন্তু ‘ফতোয়া’, ‘সালিশ’ এসব শব্দের দ্বারা এ ধরনের নারী নিপীড়নের ঘটনাগুলোকে বৈধতা দেয়া হয়। সেসব বিচারে গ্রামের ধর্মীয় ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা ও তাদের চেলাচামুন্ডারা উপস্থিত থাকে ও অংশগ্রহণ করে বলে এসব ঘটনা নিয়ে পুলিশের কাছে বিচারের জন্য ভুক্তিভোগীরা যেতে পারে না। তার বাকী জীবন হয়ে যায় দুর্বিষহ। অপরাধ না করেও সে সামাজিকভাবে একঘরে হয়, বঞ্চনা-গঞ্চনার শিকার হয়। শুনতে হয় কটুক্তি, মেনে নিতে হয় অপবাদ ও মানসিক অত্যাচার। কখনো কখনো এসব শারীরিক অত্যাচার পরিবারের মাঝে ধারাবাহিক রূপ নেয়। অনেক নারী এসব সহ্য করতে না পেরেও আত্মহত্যাও করে বসে।

স্থানীয় থানা-পুলিশ সাংবাদিকদের বলেছে তারা কোন অভিযোগ পায়নি। কিন্তু আমরা সংগঠিত একটি অপরাধের ছবি দেখতে পাচ্ছি, যেখানে একজন ধর্ষিতা নারীকে শারীরিক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, যা আইনত অপরাধ। সে নারীটি চুপ করে থাকলেও কি আমরা এভাবে চুপ করে থাকব? নারীদের নিয়ে সত্যি মাঠে কাজ করা মানবাধিকার কর্মীরা কি সে নারীর কাছে যাবে না? তার পাশে দাঁড়াবে না?

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন আদালত খুলেছে

0,,17629800_303,00

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন আদালত : ২০১৩ সাল থেকে শত শত মানুষকে গোপন স্থানে আটকে রেখেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জানিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। যাদের মধ্যে কয়েকজন বিরোধী নেতাও রয়েছেন। ৮২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে অন্তত ৯০ জনের তথ্য রয়েছে, যাদের শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই গুম করা হয়। এদের মধ্যে বেশিরভাগকে এক সপ্তাহ বা একমাস গোপন স্থানে আটকে রাখার পর আদালতে হাজির করা হয়। এ রকম আটক ২১ জনকে পরে হত্যা করা হয়েছে আর ৯ জনের কোন তথ্যই আর জানা যায়নি। এই ৯০ জনের তালিকায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া ৩ বিরোধী নেতার তিন সন্তান রয়েছে, যাদের একজন ৬ মাস পরে ফিরে এসেছেন। বাকি দু’জনের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনটিতে বিএনপির ১৯ জন কর্মীর তথ্য রয়েছে, যাদের ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলে নেয়া হয়। সবচে’ দু’টি সংস্থার প্রতি বেশি অভিযোগ, তারা হল র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি)। এ বছর ২০১৭ সালের প্রথম পাঁচ মাসে এরকম ৪৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন।

একটি সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে হলে ঠিক কত মানুষকে অদৃশ্য হয়ে যেতে হয়, তার মূল্য দিতে হয়? বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের শাসনামলে এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। আমরা নীরব থাকতে পারি না। বিশেষ করে বাংলাদেশে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়নের বিচার বর্হিভূত ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যে কোন সময়ের থেকে মাত্রা ছাড়িয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেছেন, ”মানুষজনকে আটক করে তারা দোষী না নির্দোষ নির্ণয় করা, শাস্তি নির্ধারণ করা, এমনকি তারা বেঁচে থাকবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাও যেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যেন এই ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।”

এভাবে যদি গোপন আদালতে অপরাধ নির্ধারণ করে বিচারবর্হিভূত খুন, গুম করা হয় তাহলে প্রচলিত আদালত ও বিচারব্যবস্থা থাকার কি দরকার? সংবিধান কি করছে? বিচারকরা কি করছেন? আইন-আদালত কি শুধু চুরি আর জমিজমার বিচারের জন্য বরাদ্দ? অর্থ, ক্ষমতা ও রাজনৈতিক কারণে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নিজের দেশের মানুষের উপর এমন নিপীড়ন একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চালাতে দেয়া যেতে পারেনা। অনেক পরিবার যেমন তাদের প্রিয়জন হারাচ্ছে, কেউ কেউ ভয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, এ ধরনের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা যেমন প্রত্যক্ষভাবে ঘটছে তেমনি সমগ্র সমাজে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী। মানুষ ভয়ের পরিবেশের মধ্যে বাস করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। এ অভ্যস্ত হয়ে পড়াটা মানুষকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চালিয়ে আবার তাদের গোপন কারাগারে নিক্ষেপ করে দেয়া হচ্ছে। গুম-খুন করে নিজ দেশের মানুষকে গোপন আদালতের বিচারে দীর্ঘদিন আটক রাখা নিজ দেশ ও মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ছাড়া কিছু নয়। একটি নিরাপদ-সুন্দর-শৃঙখলাবদ্ধ সমাজ গঠন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। এবং সেজন্য দীর্ঘদিন সমাজের ভেতরে প্রবেশ করে কাজ করতে হয়। ব্যক্তি উদ্যোগে, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে অনেকের সেরকম কাজ নানা ক্ষেত্রে বহাল আছে। কিন্তু রাষ্ট্র যখন মানবিক হয়ে এগিয়ে আসে তখন মানবিক রাষ্ট্র গঠনের কাজ মানবিক মূল্যবোধের দেশ নির্মাণের কাজ তরান্বিত হয়। যদি তার উল্টো হয় তার মানে হল ক্ষমতাসীনরা বা সরকার রাষ্ট্রকে বা দেশকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছে। আর তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ স্বীকার হচ্ছে মানুষ।

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন আদালত, গোপন ডিটেনশন সেন্টারগুলো বন্ধ হোক। হারিয়ে যাওয়াদের ফিরিয়ে এনে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। রাষ্ট্র মানবিক হয়ে উঠে মানুষের জীবনের মূল্য দিতে শিখুক। একটি প্রাণও হারিয়ে গেলে তা আর অন্ধকারের উৎস থেকে ফেরে না, যতদিন সে প্রাণটি বেঁচে থাকবে সুন্দর-নিরাপদ একটি সমাজে বাঁচুক।

Related Link: http://daily-sun.com/post/238582/HUman-Rights-Watch-urges-Bangladesh-to-end-disappearances-and-secret-detentions

দশটি সমকামী কৌতুক

bangladesh-250x250

প্রোস্ট্রেট পরীক্ষা

এক গে গেল ডাক্তারের কাছে।

তার প্রোস্টেট পরীক্ষার সময় ডাক্তারকে বলল, ‘ডাক্তার সাহেব, আপনি আপনার আংটিটি সরিয়ে নিতে পারেন? এটি আমাকে ব্যথা দিচ্ছে।’

ডাক্তার বললেন, ‘দুঃখিত, এটি আমার আংটি নয়। এটি আমার ঘড়ি!’

 

নগ্ন করা

দু’জন লেসবিয়ান রাতে একসঙ্গে শুয়েছে।

একজন অন্যজনের দিকে ফিরে বলল,‘আমি তোমাকে নগ্ন করতে চাই।’

অন্যজন বলল,‘আমি ভেবেছিলাম এবার আমার নগ্ন করার পালা!’

 

গাইনোকলজিস্ট

এক নারী এক গাইনোকলজিস্টের কাছে গেল।

পরীক্ষার পর তিনি জানতে চাইলেন, ‘তোমার এ জায়গাটা খুব নিঁখুত। তুমি পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কি কি করো?

নারীটি বলল,‘আমি সপ্তাহে চারবার এক নারীর সঙ্গে শুই।’

 

ছাতা

একজন আরেকজনকে বলছে,‘আমাকে কিছু বল, যাতে আমি ভিজে যাই।’

অন্যজন বলল,‘বাইরে যাও, বৃষ্টি হচ্ছে। তবে ছাতা নেবে না।’

 

কুমারী লেসবিয়ান

প্রথম নারী : ‘বেবি, আমি ভিজে গেছি।’

দ্বিতীয় নারী: ‘তোমাকে একটি টাওয়াল দেব।’

প্রথম নারী: ‘আমার তার চেয়েও বেশি কিছু দরকার।’

দ্বিতীয় নারী: ‘তোমাকে দু’টি টাওয়াল দেব।’

প্রথম নারী: ‘তুমি কি কুমারী থেকে মারা যাবে?’

 

ডিক

এক দম্পতির তিন সন্তান ছিল। দু’জন কিশোরী ও এক কিশোর। বড় মেয়েটি একদিন সে জানাল সে একজন লেসবিয়ান। এর পাঁচ বছর পরে ছোট মেয়েটি জানাল সেও একজন লেসবিয়ান।

তাদের মা রাগান্বিত স্বরে বললেন,‘এ পরিবারে কি কেউ ডিক পছন্দ করে না?’

তখন কিশোরটি এগিয়ে এসে বলল,‘আমি করি, মাম্মি!’

 

হেয়ার স্টাইল

কেন লেসবিয়ানদের চুল ছোট থাকে?

কেননা তারা তাদের চুল কাটার সকল যন্ত্র নিয়ে একে অন্যের উপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে।

 

সুন্দর মাছ

একজন লেসবিয়ান একটি বারে গেল। সেখানে একজন ওয়েট্রেস জানতে চাইল,‘তুমি কি নেবে?’

লেসবিয়ান নারীটি উত্তর করল,‘তোমার সুন্দর মাছটি কিছু চুল ধরে আছে।’

 

সিক্সটি নাইন

গোলাপ রেড।

ভায়োলেট ফাইন।

আমি হব সিক্স।

তুমি কি হবে নাইন?

 

সিঙ্গেল

– একজন লম্বা নখওয়ালা লেসবিয়ানকে তুমি কি ডাকতে পার?

– সিঙ্গেল।

Featured

কবি হুমায়ুন কবিরকে ডেকে নিয়েছিলেন ফরহাদ মজহার

humaun kabir

১৯৭৬ সালের ৬ জুন যেদিন ‘কুসুমিত ইস্পাত’ এর কবি হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হয় সেদিন তাকে ডেকে নিয়েছিলেন ফরহাদ মজহার। তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাসার অদূরে মাঠের মধ্যে পাওয়া যায়। কবি হুমায়ুন কবির নিহত হয়েছিলেন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির নির্দেশে। তার হত্যাকাণ্ডের পরে ফরহাদ মজহার কাব্য ছাপিয়েছিলেন: “আমি তোকে ডেকে বলতে পারতুম হুমায়ুন অতো দ্রুত নয়, আরো আস্তে যা।” সে সময় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল, তার পর পর ফরহাদ মজহার আমেরিকা চলে যান। আহমদ ছফা তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন:‘‘“ভাত খেলাম। কাপড় ধুয়ে দিলাম। ঘুমোলাম। মনওয়ার এবং মসি এসে জাগালো। মসি ছেলেটাকে আমি ভয়ঙ্কর অপছন্দ করি। মনে হয় ছেলেটা কি একটা মতলবে ঘুরছে। আমার ধারণা হুমায়ুনের মৃত্যুরহস্যটা সে জানে। দিনে দিনে এ ধারণাটা আমার মনে পরিষ্কার রূপ লাভ করছে। কেমন জানি মনে হয়, ছেলেটার হাতে রক্তের দাগ লেগে আছে। এ ধরনের ছেলেদের কি করে এড়িয়ে চলবো সেটা একটা সমস্যা। রেবুদের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে সম্ভবত। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত করতে পারিনি। আশা করছি এরই মধ্যে নতুন কোনো তথ্য জেনে যাবো। ফরহাদ মজহারের আমেরিকা পলায়ন, সালেহার সঙ্গে স্বামীর পুনর্মিলন এসবের সঙ্গে বোধহয় হুমায়ুনের মৃত্যুর একটা সম্পর্ক জড়িত রয়েছে।” ‘মসি’ মানে ফরহাদ মজহার।

কবি হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করেছিল পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি। এর আগে ৩ জুন খতম করা হয়েছিল সেলিম শাহনেওয়াজ ওরফে ফজলুকে। সেলিম শাহনেওয়াজ ও হুমায়ুন কবির হত্যা ওতপ্রতভাবে জড়িত। সেলিম শাহনেওয়াজ সিরাজ সিকাদারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে উপদল গঠন করেছিলেন। তার স্ত্রী মিনুকেও বহিস্কার করা হয়েছিল, যে ছিল হুমায়ুন কবিরের বোন। বোনকে আশ্রয় ও সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। হুমায়ুন কবিরের বাসায় সাইক্লোস্টাইল মেশিনে টাইপ করে ছাপানো হয় সিরাজ সিকদার বিরোধী লিফলেট, সে লিফলেটটির শিরোনাম ছিল:‘পার্টির লাইন সঠিক, কিন্তু সিরাজ সিকদার প্রতিক্রিয়াশীল’। হুমায়ুন কবিরের ভাই পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির সক্রিয় সদস্য ফিরোজ কবিরের সঙ্গে বিরোধ দানা বেঁধেছিল বিপ্লবী নেতা সিরাজ সিকদারের সঙ্গে। ফিরোজ কবিরকে একজন “কমরেড” হত্যার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই বহিস্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচারণ করেছিলেন কবি হুমায়ুন কবির।

খুলনার তুতপাড়ায় স্বস্ত্রীক পালিয়ে ছিল সেলিম শাহনেওয়াজ। তার মৃত্যুদণ্ড জারির খবর তিনি জেনে গেছেন। তখন তার কাছে বরিশালের রেজভী বার্তা নিয়ে আসে, সে বার্তা মত ঝালকাঠি যাবার কথা ছিল তার। পরদিন তার লাশ ঝালকাঠির সুগন্ধ্যা নদীতে পাওয়া যায়। তাকে হত্যা করে পার্টির কর্মী খসরু ৩ জুন। পার্টির নির্দেশ মত সে পৌঁছে যায় ঢাকায়। ৬ জুন কবি হুমায়ুন কবিরকে সে হত্যা করে। ১৯৭২ সালের ১০ জুন পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি হুমায়ুন কবির হত্যাকে স্বীকৃতি দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করে, সেখানে বলা হয়:‘‘সাহিত্যিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ, নাম-যশ করার পুরোপুরি বুর্জোয়া দৃষ্টিকোণ সম্পন্ন হওয়ায় স্বভাবতই হুমায়ুন কবিরের মধ্যে ব্যক্তিস্বার্থের প্রাধান্য ছিল। তাঁর ইচ্ছা ছিল আর.এস.পি-এর নির্মল সেন ও প্রফেসর সিদ্দিকের মতো চাকুরী ও বুর্জোয়া জীবনযাপন করে সর্বহারা পার্টির নেতা হওয়া এবং লেখক হিসাবে নিজেকে জাহির করা। তার এই মনোভাব এবং তার ভাই ফিরোজ কবির সংক্রান্ত পার্টির সিদ্ধান্ত তাকে প্ররোচিত করে ফজলু-সুলতান চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে।…..একদিকে সে এ ধরনের কথা বলেছে আর অন্যদিকে ফজলু চক্র ও নিজের বোনকে আশ্রয় দিয়েছে। পার্টি ও নেতৃত্ববিরোধী অপপ্রচার ও জঘন্য ব্যক্তিগত কৃৎসা সম্বলিত দলিলাদি লিখেছে, ছাপিয়েছে এবং বিতরণ করেছে, চক্রের প্রধান প্রতিক্রিয়াশীল বুদ্ধিজীবী হিসাবে কাজ করেছে। তার উদ্দেশ্য ছিল চক্রান্তকারীদের চর হিসাবে গোপনে পার্টির মাঝে অবস্থান করা যাতে ফজলু চক্রের পতন হলেও সে পার্টির মাঝে লুকিয়ে থাকতে পারে এবং পার্টির বিরাটাকার ক্ষতিসাধন করতে পারে…..প্রতিবিপ্লবী তৎপরতা চালাতে যেয়ে হুমায়ুন কবির পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টির গেরিলাদের হাতে খতম হয়। হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ সরকার যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছে তা পাক ফ্যাসিস্টদের হাতে নিহত কোনো বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্রে নেয়নি। তার প্রতি সরকারের বিশেষ প্রীতি কি প্রমাণ করে না যে, সে সরকারের উঁচু দরের গোপন তাবেদার ছিল?”

সেলিম শাহনেওয়াজকে ডেকে নেয়া বরিশালের রিজভি এর কিছুদিন পরে আরেক উপদলের হাতে বরিশাল শহরের তৎকালীন ডগলাস বোর্ডিং এর সামনে নিহত হয়। আর সেলিম শাহনেওয়াজকে হত্যাকারী এই খসরু ছিল কাজী জাফর গ্রুপের ক্যাডার। ১৯৭৪ সালে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্প দখল করতে গিয়ে খসরু নিহত হয়। প্রথমে কবি হুমায়ুন কবির খতম মিশনে অংশ নেওয়া গেরিলাদের পুরস্কৃত করা হলেও পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি পরবর্তীকালে হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে পুর্নমূল্যায়ন করে ও হুমায়ুন কবিরের অপরাধ থেকে তাকে দায়মুক্তি দেয়।

পার্টির এক সময়ের সম্পাদক রইসউদ্দিন আরিফ লিখেছেন:’‘বিপ্লবী পার্টিতে মতবিরোধ থাকবে। থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মতবিরোধকে কেন্দ্র করে পার্টি কমরেডদেরকে জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই ধরে জবাই করার উদ্ভট লাইন সর্বহারা পার্টিতে যেভাবে শেকড় গেড়ে বসেছিলো পৃথিবীর আর কোন বিপ্লবী পার্টির ইতিহাসে তার কোন নজির খুঁজে পাওয়া দুস্কর।’’

তথ্যঋণ:-
(১) পূর্ব বাংলার গোপন রাজনীতি-এস.এম তুষার, বরিশাল
(২) কবি হুমায়ুন কবির: বিপ্লবের ভেতর-বাহির, শওকত মাসুম, আরক, তৃতীয় সংখ্যা, ২০১৬, বরিশাল

বাংলাদেশকে পাকিস্তানী কাউকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া বন্ধ করতে হবে

pakistan_sorry_for_1971 massacare
আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি পাকিস্তানের সঙ্গে সব রকম কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশকে বন্ধ করতে হবে, দূতাবাস বন্ধ করতে হবে, যতদিন না তারা প্রকাশ্যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়। তাদের প্রতি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের এখন যথাযথ সময়। বাংলাদেশের যুুদ্ধে যে ক্ষতি হয়েছিল তার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ তাদেরকে দিতে হবে, আমরা সে টাকা দিয়ে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের কবর বাঁধিয়ে ঘৃণাস্তম্ভ বানাব।
পাকিস্তানী মিডিয়া ও আইনজীবীরা একবার বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য ‘স্যরি’ বলে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে হামিদ মীরও মুখ দেখিয়েছিল। সে ছবিটা এখানে বাংলাদেশ নিয়ে এর মাঝে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনে দেখেছিলাম; সে ছবিটা কম্পিউটারের ট্রাশবিনে ছুঁড়ে ফেললাম আজ। হুমায়ূন আজাদ বলেছিলেন যদি কোন পাকিস্তানী গোলাপ ফুল নিয়ে আসে তবু তিনি তাকে বিশ্বাস করবেন না, কথাটা নতুন করে অর্থবহ হয়ে গেল।
 
যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছে তাতে পাকিস্তানী সাংবাদিক হামিদ মীরের গোস্বা হয়নি, তার গোস্বা হয়েছে জঙ্গীনেতা মুফতি হান্নানের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার পরে। কেননা ১০০ এর বেশি মানুষ হত্যাকারী মুফতি হান্নান ছিল স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে পাকিস্তানী জঙ্গী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-য়ের সবচে’ সফল এজেন্ট।
 
হামিদ মীর’রা মনে করেছিল শুধুমাত্র ‘স্যরি’ বলে পার পাওয়া যাবে। না; স্যরি বলে পার পাওয়া যাবে না। মানব সভ্যতার ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম গণহত্যা শুধুমাত্র ‘স্যরি’ বলে পার পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশে তাদের দোসরদের বিচার অব্যাহত থাকবে। ১৯২ জন পাকিস্তানী সেনাসদস্য যারা গুরুতর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ছিল তাদের মাঝে কেউ যদি এখনও বেঁচে থাকে তাদের পাকিস্তানকে বিচারের জন্য বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। আর কেউ বেঁচে না থাকলে তাদের গায়েবী বিচার মানে প্রতীকী বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে একদিন। অন্যদিকে পাকিস্তান একটি ব্যর্থ ও ফকির রাষ্ট্র। পাকিস্তানকে বাংলাদেশ থেকে যে সম্পদ তারা চুরি করেছিল সে সম্পদ ও বাংলাদেশের যুুদ্ধে যে ক্ষতি হয়েছিল তার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ তারা দিতে পারবে কিনা যদিও সন্দেহ আছে। কিন্তু সে অর্থ দিতে তাদেরকে চাপের মুখে বাংলাদেশকে রাখতে হবে।
 
আইএসআই এর মদদপুষ্ট বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিয়োজিত পাকিস্তানী গোষ্ঠীদের তাদের পাওনা একে একে বাংলাদেশ চুকিয়ে দেবে আগামী দিনেও। শুধু দুঃখ যে তার পিতা ওয়ারসি মীর যাকে ২০১৩ সালে আরো ১৩ পাকিস্তানীর সঙ্গে মরণোত্তর স্বাধীনতা সম্মাননা দিয়েছিল বাংলাদেশ, তার পিতা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাক সেনাদের নিষ্ঠুর ও ঘৃণ্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একের পর এক কলাম লিখেছিল তখনকার ‘জং’ পত্রিকায়, সে অবদানকে এক অর্থে অস্বীকার করল সে। মানে নিজ পিতার মুখে চুনকালি দিল। তার বক্তব্য হল শেখ হাসিনার সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না, সে কারণে তার পিতাকে দেয়া সম্মাননা সে ফেরত দিতে চায়।
 
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একের পর বাস্তবায়ন হওয়ায় সে ১৩ পাকিস্তানীর পক্ষে যারা সম্মাননা গ্রহণ করেছিল তাদের প্রতি আইএসই অব্যাহত চাপ দিয়ে যাচ্ছে সম্মাননা ফেরত দেয়ার জন্য। হামিদ মীর ছাড়াও আরো কেউ বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না এ অভিযোগ তুলে যদি সম্মাননা ফেরত দিতে চায় বাংলাদেশ সদাপ্রস্তুত আছে, সেজন্য তাদের এ দেশের মাটিতে তাদের নোংরা পা রাখার দরকার নেই, পাকিস্তানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ফেরত পাঠিয়ে দিলেই চলবে।
 
বাংলাদেশে প্রতিটি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায় বাস্তবায়নের পর পাকিস্তান অগ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তার বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালিয়েছে যে বাংলাদেশে ইসলামী বিরোধী দলীয় নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। ধর্মের ট্রাম্পকার্ড তারা এখনও খেলে যাচ্ছে। আমরা আমাদের দেশের-বাংলাদেশের বিশ্বাসঘাতক-মীরজাফর নাগরিকদের বিচার করছি, তাতে পাকিস্তানের কি? তাদের গায়ে লাগে কারণ জামাতে ইসলামের এসব নেতারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আইএসআই এর হয়ে কাজ করতো। সে কারণে এখানে এক একটি বিচারের রায় বাস্তবায়ন হয় আর কান্না ওঠে ইসলামাবাদে, লাহোরে।
গত বছর বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বরে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে তাদের সোশাল মাধ্যমের পাতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী নতুন প্রপাগান্ডা ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হয়েছিল। ইমরান খানের মতো পরিচিত ক্রিকেটার এখন পতিত রাজনীতিকের খাতায় নাম লিখিয়েছে, তার সঙ্গে ‍এবার যুক্ত হল আরেকটি নাম ‘হামিদ মীর’। এসব পতিত বুদ্ধিজীবীরা চাপের মুখে নতি স্বীকার করে না, তারা নতি স্বীকার করে সুবিধা পেলে। শীঘ্র হামিদ মীর এমনকি পাকিস্তানের রাজনীতিতেও নাম লেখাতে পারে বলে ধারণা করি। সে পাকিস্তানে বাংলাদেশ বিরোধী ভাবাবেগ কুড়িয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা কামানোর ধান্দায় আছে। যাক গে, হামিদ মীর গুরুত্বপূর্ণ কেউ না আমাদের কাছে, পাকিস্তানের বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া হল গুরুত্বপূর্ণ।
 
সেজন্য আবারও বলি,পাকিস্তানের সঙ্গে সব রকম কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশ সরকারকে বন্ধ করতে হবে, পাকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশে পাকিস্তান দূতাবাস বন্ধ করতে হবে, যতদিন না তারা প্রকাশ্যে ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়। হামিদ মীরের এ ঘটনাটি নতুন করে আমাদের সে দাবী জীবন্ত করে তুলুক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সমর্থন করা বা বাংলাদেশে পাকীদের গণহত্যার বিরোধিতাকারী পাকিস্তানী কোন নাগরিককে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের বন্ধ করা উচিত, যদি কেউ বেঁচে থাকে তাহলে তার হাতে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু হামিদ মীরের মতো তার পিতার সম্মান নিয়ে টানাটানি যেন আর কেউ করতে না পারে, সে সুযোগ তাদের দেয়া যাবে না।

`Have defamed us’ is a new strategy for torture in Bangladesh

200x200_3f33ecd9139939272ec962b0a972939a_atok2

Translated by Nandini Mandal

Religious text is the surprising infatuation for some humans. The religious book comprises of pages of all the incredible stories as in a fairytale, with no basis in science and rationality. And that which has no basis in the scientific and rational realm, we cannot accept. Arrests linked to defamation of the Quran occur every month in Bangladesh. There are some elements to the clamp down on freedom of expression. Among them is the blatant abuse of human rights by arresting and imprisoning people in the name of so-called defamation of religion.

Article 57 of the ICT Act is a black law. By virtue of this Act, any person can be imprisoned without trial and bail. Fundamentalists in Bangladesh have petitioned for a long time to adopt the control of religious speech through the blasphemy law. The government has not named it ‘the blasphemy law’, but since 2006 they have used the IT or ICT law to stop online writing and criticism effectively as the blasphemy law. Section 57 of the IT Act opposes freedom of speech; writers, activists, human rights activists, journalists and conscious groups have repeatedly requested the government to cancel or change this law. Because this section of the Act doesn’t define why or what writing and speech constitute a crime. Section 57, sub-section 1 states, ‘If any person willfully publishes or broadcasts in a website or any other electronic media, which the state considers obscene and false or if the concerned matter may incite anyone to be corrupt or dishonest upon reading, seeing or hearing or cause defamation, deteriorates or increases the likelihood of deterioration of law and order, affects the image of the state and the individual, hurts or is likely to hurt religious belief or by such information is provided against any person or organization, then it will be considered a crime. The criminal penalties resulting out of this prescribed in section 57 sub-section 2 states,” If a person commits an offense under subsection (1) they shall be punishable by imprisonment for a term not exceeding fourteen years and a minimum of seven years with a fine not exceeding one million rupees. This is extreme punishment beyond the penalties imposed for ordinary felonies. Moreover, this law authorizes the police to arrest without a warrant and litigate directly with the court. And bail may not be granted. This Act can be abused and has been enforced arbitrarily. The original spirit of freedom of expression enshrined in the Constitution is directly in conflict with section 57 of ICT act. This trend undermines journalistic and civil liberties, which is contrary to the article 39 of the Constitution. Besides guarantying all citizens’ freedom of thought and conscience, Article 39 confirms the freedom of speech and freedom of the press within certain conditions.

In addition to the arrests based on charges of sacrilege against the religious book of the Muslims, there’re have been incidents of arrests on charges of defamation against the Prophet Muhammad. After review of these events one can infer that such incidents have been sometimes carefully planned to gain political capital or avenge personal enmities. Like the story of Debasish Das Sohail at Ashuganj sub-division in Brahmanbaria in November 2011. It spread through Facebook that Debasish Das has made profane comments about the prophet Muhammad Sohail. Taking this cue 60 to 70 people attacked and demolished the temple and damaged houses in three Hindu-dominated areas such as Tanapara, Kandapara and Dasapara near his village. Debasish Das Sohail was arrested on the basis of section 57 of the IT Act.

Now if we look at several newspapers and blogs, we would understand how wildly the complaint of defamation has begun to spread. In the March of 2013, Debabrata Roy, a teacher at a school in Gopalganj district was arrested because he asked his students to study English instead of reading the Namaz (Islamic prayers) five times a day. In 2014, Prasenanjit Chandra Shil, a teacher in Moulvibazar was assaulted on allegations of defamation. Subsequently he fled the village and was reported missing. Sushant Kumar Dhalia, a teacher at the Nalta Secondary School in the district of Satkheera, was arrested on charges of defaming the Prophet. During class, he said, “There was a Hindu saint, a Muslim Maulvi was a foreign gentleman in a place. First, the Hindu saint stated the name Krishnochura (Krishna-crown) has been derived from the name of the deity Krishna. Maulvi then that it would have been better if it was called Muhammad crown. Similarly, when the Hindu saints and mentioned Gopalganj (Gopal’s village, Gopal is another name of Krishna) and Krishnanagar (Krishna’s town) Maulvi indicated Mohammadanagara and Mohammadaganja would have been better. When a ramchagol (dumb goat) came by, the foreigner said, instead of ramchagol we should call it Mohammad chagol(goat). ”

When Abdur Rauf, a lecturer at Moulvibazar Government College in Sylhet, made comments about the essence of Islam in an attempt to explain the poem ‘Samyabadi’ (Communist) written by the Bengali poet Kazi Nazrul Islam, he was fired from the college on allegation of defaming Islam. In 2013 the arrest of Partha Sarathi Das and Vijay Chandra Pappu over ‘liking’ the ‘Muktamana’ (Free-minded) blog in their Facebook page is widely known. In February of 2015, lawsuit and movement demanding the execution of Michael Hassan was started. Charges against him were brought on the basis of his YouTube video “Michael Hassan khristiyanari from Islam,” where he made a few offensive comments about Islam. In another incident in 2014 near Hobianj district, Kritanta Das was arrested based on his so-called offensive Facebook post. When police went to arrest him the local mob clashed with the police wanting to beat him up for defaming their religion. Police fired 37 rounds of rubber bullets that wounded least 20.

In the district of Chittagong on March 30, 2014, Raihan Rahi and Ullas Das were attacked men attacked from the extremists’ camp on allegations of defaming Islam. These two men were handed over to police only after being mauled by the extremists. Then in Tangail district defamation charges against Nikhil Joarder, a teacher was filed. In 2012 defamation allegations arose against school English teacher, Krishna Chandra of Laksham Pilot High school in Comilla district. Many Hindu houses were damaged on defamation allegations that centered around the staging of a play on Victory Day in December 2012 in Satkhira. The defamation charges arose from the play “Huzur Cabla” by Abul Mansur Ahmad written about the unmasking of religious (Peer) traders. Even the students were arrested for taking part in the drama. The scope of the vandalism was so large that almost two thousand men were accused.  Debashish Dayamoy another teacher in Brahmanbaria district was arrested on charges of defamation. Nirmal Kumar Roy, a lecturer at the Vikram Adarsh University in Munshiganj district was charged in a defamation suit and attacked as a result of this. Charges against him were fabricated because he praised “Innocence of Muslims”, a movie made about the prophet Muhammad. Pradeep Kumar Das, a teacher at Borolekha sub-division in Moulvibazar district was arrested because of defamation against Islam. Supriya De Khan, a teacher in Jamalpur district was expelled on charges of defamation against Islam because while teaching the fifth grade, she said, “Earthquake is not a myth it’s real and could happen. Allah, Ishwar or God is rather unreal.” The premises of small Telecom business owner at Gobindapur village in Habiganj was vandalized because he published religious caricatures. Police fired 34 rounds of rubber bullets pellets to bring the situation under, and ten were wounded. Charges of defamation were filed against Mridul, young man in Barisal district! In Narsingdi district Hridyoy Chandra Saha and Sukanto Chandra Saha were charged with allegations of defamation arising from their Facebook posts. Hridyoy was sent to jail while Sukanta absconded. When a student of BM College in Barishal district posted about her non-religious views in 2015 on Facebook, she was deemed an atheist demonstrations were held demanding her while her effigies were burnt. In another event of 2015 the Cyber Crimes Tribunal in Dhaka ordered that Nikhil Ranjan Roy (aka Prince) be sent to jail after he made comments on Facebook about the Prophet Muhammad. Besides this a man was beaten up a mob while traveling in a bus on charges of defamation in the Farmgate area. Suranjit Sengupta, the Librarian at Textile Engineering College in Begumganj of Noakhali district was handed over to the police after a public-mauling at the hands of an extremist mob. Dr. A K M Laiju, a Medical College Professor was sued and attacked on defamation allegations. During class he had said, “The Prophet also married his his adopted son Zaid’s wife.” There’s evidence about this in the Quran. Madan Mohan, a teacher at Dhanmondi Government Boys’ High School was assaulted because he raised questions about numerous marriages by the Prophet Muhammad during his last years. Shankar Biswas Mondal, an English teacher of the G T Pilot High School of Tungipara in Gopalganj district, was under and expelled due to his religious comments. In June 2014 Raiganj first-year student Gopal Chandra Dev of Raiganj college Kurigram district was arrested in June 2014 on charges of defamation. In 2015 defamation charges were filed against Jewel Chandra Shil, a student at Feni Polytechnic Institute based on his Facebook Comments. Sujan Dey of Fatiksar in Chittagong district was arrested and accused of inciting religious riots when he uploaded offensive pictures on Facebook. Aung Sing Marma, a student of Notre Dame College in Dhaka was arrested on charges of defamation in 2013. Kinkara Chandra Samajhadara, a teacher in Narail district was threatened with expulsion because he said to the class, “Religious bigotry exists in the sub-continent.” After this event the vandalism began, although students reiterated in the ‘Bangla Tribiune’ newspaper, “Kinkara did not say any of those things that were alleged he said and are talked about in different. Also what is being printed on the poster as his words are all lies. He never remarked any such things that are being alleged.”

There are many more such incidents outside of these. I hope we do not need to list all of them to form an understanding of the situation. Now if we analyze incidents of harassment and arrest for allegedly defamation of Islam you’ll see that teachers were the most victims in such incidents. Most of the arrests occurred involving Hindu teachers. Let alone upholding the right to freedom of speech, charges against many of them are framed, some victims have been arrested, some have left their homes under fire and for fear of being heckled by their Muslim neighbors. This doesn’t include many more unreported incidents of which we do not know of.

People of Bangladesh do not know what freedom of speech is, their constitutional rights, what they’re entitled to, instead they are stuck in a vicious cycle. As such due to systemic corruption, people can’t say anything against the people in power. On one hand those in power have the administration to protect their interests and on the other hand they also have a hired army of strongmen to suppress dissent. Once anyone speaks out against them there is no escape, at night or even in broad daylight they would be threatened under the knife, and be killed by these gangsters. So no one speaks up, no one listens to those who teaches others to think! Those struggling to make their both ends meet, do not have the luxury to think about freedom of speech in a developing country like Bangladesh. Because they have to survive every day for their family and their relatives. Taking advantage of their poverty and gullibility, the administration is not only clamping down on the thinkers, writers and activists through arrests and torture but they’re also silencing any form of freedom of expression with the allegation of defamation. Since a large portion of the school and college teachers are Hindu, Islamic extremists consider them as major obstacles in their effort of Islamization of the education system. We merely became an independent nation in 1971 but we have never attained real independence. By terrorizing people freedom of expression can’t flourish and if freedom of expression is silenced, any other freedom remains elusive. Bangladesh is gradually entering the dark ages of religious extremism under the influence of one of the world’s youngest religion.